ওঙ্কার ডেস্ক: আমেরিকার কুখ্যাত ব্যবসায়ী জেফ্রি এপস্টিনের নতুন নথিপত্র প্রকাশ্যে আসতেই ফের তীব্র আলোড়ন শুরু হয়েছে। নথিপত্রে বিশ্বের একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। তালিকায় রয়েছেন টেসলা ও এক্স (সাবেক টুইটার)-এর মালিক এলন মাস্কও। দাবি করা হয়েছে, ২০১৪ সালের ৬ ডিসেম্বর মাস্ক নাকি এপস্টিনের মালিকানাধীন ব্যক্তিগত দ্বীপ লিটল সেন্ট জেমস-এ যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। যদিও তিনি আসলেই সেখানে গিয়েছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।
এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পরই বিতর্ক ছড়িয়েছে। এলন মাস্ক নিজে অবশ্য একে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে মাস্ক লিখেছেন, ‘ এটি মিথ্যা অপবাদ ”। তাঁর দাবি, এপস্টিনের সঙ্গে কোনও সম্পর্কই নেই তাঁর।
শুধু মাস্কই নন, এপস্টিন ফাইলসে উঠে এসেছে আরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের নাম। তালিকায় রয়েছেন মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রাক্তন উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন, ধনকুবের বিনিয়োগকারী পিটার থিয়েল, ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রু-সহ আরও অনেকে।
নথি অনুযায়ী, এপস্টিনের সময়সূচিতে এঁদের নাম বিভিন্ন ভ্রমণ পরিকল্পনা ও বৈঠকের সূচিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এঁরা আসলেই এপস্টিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন কি না, কিংবা তাঁর দ্বীপে গিয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। অনেক বিশেষজ্ঞই মনে করছেন, কেবল নাম উল্লেখ থাকলেই যে সরাসরি যোগসূত্র প্রমাণিত হয়, তা নয়।
এই নথিগুলি সম্প্রতি মার্কিন ডেমোক্র্যাটদের তরফে প্রকাশ করা হয়েছে। বহু সমাজকর্মী ও মানবাধিকারকর্মী ইতিমধ্যেই পুরো এপস্টিন ফাইল জনসমক্ষে আনার দাবি তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, শুধুমাত্র আংশিক নথি প্রকাশ করলে প্রকৃত সত্য চাপা পড়ে যাবে।
প্রসঙ্গত, অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন পাচার এবং নারী নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগে একাধিকবার অভিযুক্ত হয়েছিলেন জেফ্রি এপস্টিন। ২০১৯ সালে নিউ ইয়র্কের জেলে রহস্যজনক পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু হয়। তারপর থেকেই বারবার নতুন তথ্য, নতুন নথি সামনে আসছে এবং আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসছে বিশ্বের বহু শীর্ষ ব্যক্তিত্বের নাম।