অরূপ ঘোষ, ঝাড়গ্রাম : ভিনরাজ্যে মৃত্যু পরিযায়ী শ্রমিকের। দেহ ফিরলো বাড়িতে। সরকারি তত্ত্বাবধানে বিমানে মৃতদেহ আনা হল কোলকাতায়। প্রশাসনিক ব্যাবস্থাপনায় মৃতদেহ তুলে দেওয়া হয় পরিবারের হাতে। মৃত শ্রমিক এর বাড়িতে দাঁড়িয়ে থেকে সমস্ত ব্যাবস্থাপনা করেন গোপীবল্লভপুরের বিধায়ক ডাঃ খগেন্দ্র নাথ মাহাত।
খবর পাওয়া মাত্রই রাজ্য সরকারের তরফে শ্রমিক পরিবারের পাশে দাঁড়ান তিনি। পেটের দায়ে ভিন রাজ্যে তামিলনাড়ুতে কাজ গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় বছর তিরিশের বাংলার এক পরিযায়ী শ্রমিকের। মৃতের নাম গৌরাঙ্গ রানা৷ তিনি ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর ২ নম্বর ব্লকের বড় আসনবনি গ্রামের বাসিন্দা৷
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আগষ্ট মাসের মাঝামাঝি সপ্তাহে গোপীবল্লভপুরের বড় আসনবনী গ্রামের পরিযায়ী শ্রমিক গৌরাঙ্গ চেন্নাইয়ে একটি বেসরকারি কোম্পানীর কাজ করতে গিয়েছিলেন। গত রবিবার সন্ধ্যায় কোম্পানির কাজ সেরে বাসায় ফেরার পথে রাস্তায় একটি বাইক আরোহী পিষে দিয়ে যায়। এর পরেই তামিলনাড়ু রাজ্যের চেঙ্গালপট্টু জেলার একটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা হয়। কিন্তু মাথায় গুরুতর আঘাত থাকার কারণে বসেখানের একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় গৌরাঙ্গ রানাকে। গত সোমবার মৃত্যু হয় ওই বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের।

পরিবারের অভিযোগ চিকিৎসার গাফলতির জন্যই অকালে মৃত্যু হল ওই বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের। জানা গেছে, বারে বারে হেনস্থার মুখে পড়তে হয় তামিলনাড়ু রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের কাছে। মৃত্যুর পর দফায় দফায় টাকা খরচা হয়। এছাড়াও টাকা চাওয়ার অভিযোগ ওঠে ওই রাজ্যের পুলিশের বিরুদ্ধে। পদে পদে হেনস্তা হতে হয় বলে অভিযোগ। এমনকি ওই রাজ্যের সরকারি হাসপাতালেও পরিবার জানানোর পরেও সাধারণ বেডে ফেলে রাখা হয় বাংলার এই পরিযায়ী শ্রমিককে। মূলত চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

এদিকে মৃত্যুর খবর পৌঁছোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গ্রামে। ভেঙে পড়ে পরিবার পরিজন। সংসারের একমাত্র ভরসা ছিলেন তিনি। বাড়িতে রয়েছে স্ত্রী ও ছোট্ট একটু মেয়ে। এছাড়াও রয়েছেন মা ও দাদা। কয়েক বছর আগে বাবার মৃত্যু হয়। সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে পেটের তাগিদে কাজে গেছিলো গৌরাঙ্গ রানা। গৌরাঙ্গর মৃত্যুর খবর পেয়েই তার পরিবারের সঙ্গে গিয়ে দেখা করেন ডাক্তার বিধায়ক খগেন্দ্র নাথ মাহাত। সবরকম সহায্যের আশ্বাস দেন।
গৌরাঙ্গের দেহ নিয়ে বুধবার রাতের বিমানে আসার কথা ছিল। কিন্তু তামিলনাড়ু প্রশাসনের হেনস্থার কারণে আটকে যেতে হল। বৃহস্পতিবার আটটা নাগাদ তাঁরা কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছান। এরপরই সেখানে প্রশাসনের এম্বুলেন্সে নিজের বাড়িতে পৌঁছোয় গৌরাঙ্গর নিথর দেহ। রাজ্য সরকারের নির্দেশে, সমস্ত রকম সহযোগিতা করে ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিশ প্রশাসন। বিধায়ক ডাক্তার খগেন্দ্রনাথ মাহাতো দাঁড়িয়ে থেকে সমস্ত কিছু তত্ত্বাবধান করেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিযায়ী শ্রমিকের কার্ড তৈরি করে দেওয়া হয় যাতে সরকারি সাহায্য পান তাঁরা। গৌরাঙ্গই ওই পরিবারের এক মাত্র ভরসা ছিলেন। তাঁর স্ত্রীর ও ৩ বছরের এক মেয়ে রয়েছে। তাই পরিবারের ও স্থানীয় মানুষের দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদি তাঁদের একটি কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয় তাহলে তাঁরা সামলে উঠতে পারেন।
