ওঙ্কার ডেস্ক: এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের শোরগোল। সোমবার ভোরে হঠাৎ ইডির অভিযান ঘিরে নাটকীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার আন্দির বাড়িতে। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সংস্থার উপস্থিতি টের পেতেই বাড়ির পিছনের দরজা দিয়ে পাঁচিল টপকে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু ধাওয়া করে ইডির জওয়ানরা তাঁকে পাকড়াও করেন। ততক্ষণে বিধায়ক কাদা-মাখা অবস্থায় ঝোপে পড়ে যান।
অভিযানের মাঝেই প্রকাশ্যে আসে আরও এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। ইডির দাবি, পালাতে গিয়েই বাড়ির পিছনের ঝোপে নিজের মোবাইল ফোন ফেলে দেন জীবনকৃষ্ণ। তবে তদন্তকারীরা কিছু সময় পর সেই মোবাইল উদ্ধার করতে সক্ষম হন। পরে বিধায়ককে ভেতরে নিয়ে এসে জামা-কাপড় পাল্টে অন্তত ছ’ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় সংস্থা। শুধু আন্দি নয়, এদিন একযোগে অভিযান চলে সাঁইথিয়ায় বিধায়কের পিসি তথা কাউন্সিলর মায়া সাহার বাড়ি, রঘুনাথগঞ্জে তাঁর শ্বশুরবাড়ি এবং মহিষগ্রামে রাজেশ ঘোষ নামে এক ব্যাংককর্মীর বাড়িতেও।
এই প্রথম নয়। ২০২৩ সালের ১৭ এপ্রিল একই মামলায় সিবিআই জীবনকৃষ্ণকে গ্রেফতার করেছিল। তখনও অভিযোগ ওঠে, প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে তিনি দুটি মোবাইল ফোন পুকুরে ছুড়ে ফেলেছিলেন। পরে সিবিআই জল ছেঁচে ফোন উদ্ধার করে। প্রায় ১৩ মাস জেল খাটার পর সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি। সোমবার আবারও দুর্নীতি মামলার তদন্তে গ্রেফতার হলেন। আজই তাঁকে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে তোলা হবে।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, বিধায়কের মোবাইল ঘেঁটে একাধিক প্রমাণ মেলে। চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নেওয়ার পরও অনেককে চাকরি দিতে পারেননি তিনি। অভিযোগ, কেউ কেউ টাকা ফেরতের দাবি করলে কখনও অর্ধেক ফেরতের আশ্বাস, আবার কখনও পুরো টাকা না দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন জীবনকৃষ্ণ।
তদন্তকারীদের দাবি অনুযায়ী, কারও কাছ থেকে ১২ লক্ষ, কারও কাছ থেকে ১৮ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন বিধায়ক।
এসএসসি দুর্নীতি মামলায় ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের একাধিক প্রভাবশালী নেতা-মন্ত্রী। জীবনকৃষ্ণ সাহার দ্বিতীয়বারের গ্রেফতার প্রমাণ করছে, এখনও মামলার তদন্তে বেরিয়ে আসছে নতুন নতুন তথ্য।
