ওঙ্কার ডেস্ক : কলকাতার কসবার সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজে এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্যজুড়ে। এই ভয়াবহ ঘটনার খবর পেয়ে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দফতর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষকে তিন দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। এই রিপোর্টে কলেজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ছাত্র-ছাত্রীদের নজরদারি, এবং প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কলেজ গভর্নিং বডির জরুরি বৈঠক ডাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগের কথাও ভাবতে বলা হয়েছে দফতরের পক্ষ থেকে। এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্র, কলেজের প্রাক্তন ছাত্র এবং অস্থায়ী কর্মী। ২৫ জুন রাতে কলেজ চত্বরে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের ঘটনায় তার সঙ্গে গ্রেফতার হয়েছে আরও দুই ছাত্র। অভিযোগ, কলেজের প্রাক্তন ছাত্র তথা অস্থায়ী কর্মী এবং তৃণমূল ছাত্র পরিষদের এক প্রভাবশালী নেতা ওই ছাত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। ছাত্রী সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে অভিযুক্ত প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠেন। ২৫ জুন রাতে কলেজের ইউনিয়ন রুমে ছাত্রীকে আটকে রেখে শারীরিক নিগ্রহ চালানো হয়। এরপর গার্ড রুমে নিয়ে গিয়ে ঘটে পাশবিক নির্যাতন। অভিযুক্তকে সহযোগিতা করে কলেজের দুই বর্তমান পড়ুয়া।
এই ঘটনায় তিনজন অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই কলেজ চত্বরের ইউনিয়ন রুম ও গার্ড রুম ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে। জোরদার হয়েছে নজরদারি, তল্লাশি চালানো হয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নির্যাতিতার বয়ান রেকর্ড করে তদন্তের গতি বাড়ানো হয়েছে। ঘটনার পর কলেজ চত্বরে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে পুলিশ। রাস্তার দিকেও ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে।
শিক্ষামহলে এই ঘটনার পর বিস্ময় এবং ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, দিনের পর দিন কীভাবে কলেজের ভিতরে অসামাজিক কার্যকলাপ চলছিল অথচ প্রশাসনের নজরে এলো না? সমাজের একাংশ দাবি তুলেছেন, শুধুই অভিযুক্তদের শাস্তি নয়, শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তা নীতিতেও প্রয়োজন বড়ো ধরনের পরিবর্তন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনা গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার নৈতিক ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের মানসিক নিরাপত্তা, যৌন হেনস্তা প্রতিরোধ ব্যবস্থা, এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির ওপর নতুন করে জোর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। প্রতিটি কলেজে মনিটরিং ব্যবস্থা, অভিযোগ জানানোর স্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং ছাত্র কল্যাণ ইউনিটকে আরও সক্রিয় করতে হবে।
এই ঘটনায় সমাজের প্রতিটি স্তরে নিন্দার ঝড় উঠেছে। সাধারণ মানুষ থেকে ছাত্রছাত্রী—সকলেই অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন। সেইসঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে প্রশাসনের কড়া নজরদারি এবং সক্রিয় পদক্ষেপ কামনা করছেন সকলে।
