শুভাশীষ চট্টোপাধ্যায়
ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে টালিগঞ্জের রাধা স্টুডিও, চলচ্চিত্র শতবর্ষ ভবনে প্রদর্শিত হল বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রদীপ ঘোষ নির্মিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘বীরকন্যা প্রীতিলতা’। ১৬ আগস্ট ২০২৬, রবিবার সকালে চলচ্চিত্রটির বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
ভারতের ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্নিকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের জীবন, সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের কাহিনি অবলম্বনে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি দর্শকদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ সৃষ্টি করে।
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ছিলেন চট্টগ্রামের বিপ্লবী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নারীযোদ্ধা। তাঁর আত্মত্যাগ ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়। সেই ইতিহাসকে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই ‘বীরকন্যা প্রীতিলতা’-এর অন্যতম উদ্দেশ্য।বিশেষ এই প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক অভিজিৎ দাশগুপ্ত, কলকাতা প্রেস ক্লাবের সভাপতি স্নেহাশীষ সুর, প্রবীণ বামপন্থী নেতা সুজন চক্রবর্তী, সমাজকর্মী স্বর্ণালী ঘোষ ও সুব্রত দে সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্রটির পরিচালক প্রদীপ ঘোষ উপস্থিত অতিথি ও দর্শকদের সঙ্গে চলচ্চিত্রটির নির্মাণ, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের জীবন এবং তাঁকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন।সুজন চক্রবর্তী বলেন প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের নাম যথাযথ ভাবেই অগ্নিকন্যা দেওয়া হয়েছে। মহীয়সী এই এই বিপ্লবীর সম্বন্ধে জানতে হলে এই সিনেমাটা দেখা উচিত।
কলকাতায় এই বিশেষ প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে প্রীতিলতার জীবন ও সংগ্রামের ইতিহাস দুই বাংলার দর্শকের কাছে আরও বিস্তৃতভাবে পৌঁছানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা চলচ্চিত্রটির প্রশংসা করেন এবং প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের মতো ঐতিহাসিক চরিত্র ও তাঁদের আত্মত্যাগ নিয়ে আরও চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।চলচ্চিত্রটির প্রযোজনা করেছে এস. এম. এন্টারটেইনমেন্ট, এবং এদিনের সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেছেন সাংবাদিক শুভাশিস চট্টোপাধ্যায়। এদিনের অনুষ্ঠান থেকে এস. এম. এন্টারটেইনমেন্ট এর কর্ণধার সুমন চক্রবর্তী জানিয়েছেন তারা শীঘ্রই প্রথম মহিলা বাংলা ভাষা শহীদ কমলা ভট্টাচার্যের স্মরণে “কমলা” নামের একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করবেন। এদিনের প্রদর্শনীটি আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নির্মাণ ও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক সংযোগও তৈরি হলো বলে মনে করছেন দুই দেশের সংস্কৃতি প্রেমী মানুষেরা।