ওঙ্কার ডেস্ক: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুন মামলার তদন্তে ফের সক্রিয় হয়েছে সিবিআই। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে গঠিত নতুন বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) সম্প্রতি হাসপাতাল চত্বরে পৌঁছে ঘটনাস্থল এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছে। তদন্তকারীরা হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, নিরাপত্তারক্ষী এবং অন্যান্য কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার রাতের প্রতিটি মুহূর্তের তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন।
তদন্তকারী সংস্থার লক্ষ্য, ঘটনার দিন রাত থেকে শুরু করে মৃতদেহ উদ্ধারের পরবর্তী সময় পর্যন্ত পুরো ঘটনাক্রম নতুন করে খতিয়ে দেখা। সিবিআই আধিকারিকরা জানতে চাইছেন, ঘটনার আগে ও পরে হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে কারা উপস্থিত ছিলেন, কীভাবে তথ্য আদানপ্রদান হয়েছে এবং কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা প্রমাণ ইচ্ছাকৃতভাবে আড়াল করা হয়েছিল কি না। সেই কারণে হাসপাতালের একাধিক কর্মী ও চিকিৎসককে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, তদন্তকারী দল বিশেষভাবে নজর দিচ্ছে ঘটনার রাতে হাসপাতালের সেমিনার হল সংলগ্ন এলাকা, ডিউটি রোস্টার, সিসিটিভি ফুটেজের নথিভুক্ত তথ্য এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর। আগের তদন্তে সংগৃহীত নথিপত্র ও সাক্ষ্যপ্রমাণের সঙ্গে নতুন তথ্য মিলিয়ে দেখার কাজও চলছে। তদন্তকারীদের মতে, ঘটনার প্রতিটি ধাপকে পুনর্গঠন করতে পারলেই প্রকৃত সত্যের কাছাকাছি পৌঁছনো সম্ভব হবে।
এই মামলায় ইতিমধ্যেই সিভিক ভলেন্টিয়ার সঞ্জয় রায় দোষী সাব্যস্ত হলেও নিহত চিকিৎসকের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার নেপথ্যে আরও ব্যক্তির জড়িত থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। পাশাপাশি প্রমাণ নষ্ট করা বা ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টার অভিযোগও দীর্ঘদিন ধরে উঠেছে। সেই অভিযোগগুলিকেও গুরুত্ব দিয়েই নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে গঠিত এই বিশেষ তদন্তকারী দলকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, শুধু মূল অপরাধ নয়, ঘটনার পরবর্তী সময়ে কারও ভূমিকা সন্দেহজনক ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখতে হবে। ফলে তদন্তের পরিধি আগের তুলনায় অনেকটাই বিস্তৃত হয়েছে।