ওঙ্কার ডেস্ক: অবশেষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শান্তিচুক্তিতে রাজি হয়েছে। যার ফলে তিন মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ উত্তেজনার অবসান ঘটতে চলেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে আবার স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করছেন অর্থনীতিবিদরা। এই আবহে যুযুধান দুই পক্ষের শান্তিচুক্তিকে স্বাগত জানাল ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তেহরান ও ওয়াশিংটনের শান্তিচুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ‘এটি শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে সহায়তা করবে বলে আশাবাদী’।
সমাজ মাধ্যম এক্স হ্যান্ডেলে এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদী শান্তিচুক্তিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত অবসানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে, তাকে আমি স্বাগত জানাই। এই সংঘাত বিশ্বজুড়ে মারাত্মক অর্থনৈতিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল এবং অনেক দেশে প্রাণহানির কারণ হয়েছিল।’ উল্লেখ্য, এই সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল এবং বিভিন্ন দেশে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছিল। তিনি আরও লেখেন, ‘ভারত আশা করে, এই সমঝোতা বাস্তবায়নের ফলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং অবাধ নৌ-চলাচল ও বাণিজ্য নিশ্চিত হবে।’ আলোচনার মাধ্যমে অমীমাংসিত বিষয়গুলোতে দীর্ঘস্থায়ী সমাধানসূত্র বেরিয়ে আসবে বলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শান্তিচুক্তিতে রাজি হওয়ায় বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী অবরোধ মুক্ত হবে। যার ফলে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি সঙ্কট নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল তা কেটে যাবে। যদিও এই চুক্তিটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ১৯ জুন উভয় পক্ষ সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করবে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যৌথ ভাবে হামলা করে। তার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের মালিকানাধীন ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, ‘ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।’ তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে ভূমিকা পালন করেছিল পাকিস্তান, সে দেশের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও শান্তিচুক্তির কথা জানিয়েছেন।