ওঙ্কার ডেস্কঃ রাজ্যের প্রাক্তন দুই বাম মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু বা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কখনও ইদের নমাজের মঞ্চে পা না রাখলেও, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অলিখিত রেওয়াজে পরিণত করেছিলেন ইদের নমাজ। প্রতি বছর ইদের সকালে রেড রোডের চেনা মঞ্চে তিনি উপস্থিত থাকতেন। ছাব্বিশের পালাবদলের পর প্রশাসনিক রাশ এখন শুভেন্দু অধিকারীর হাতে। তাই এবার রেড রোড নয়, বরং ইদের নমাজ পড়া হবে ব্রিগেডে।
আইনি ও সামাজিক বাধ্যবাধকতা মেনে রেড রোডের বিকল্প হিসেবে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে ইদের নমাজ পড়ার অনুমতি দিচ্ছে রাজ্য সরকার। এই বিষয়ে খিলাফত কমিটি-সহ সংশ্লিষ্ট আয়োজকদেরও আগাম বার্তা দিয়ে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
নবান্নের এক শীর্ষ কর্তা জানাচ্ছেন, ব্রিগেডের মাঠে বড় কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন এই প্রথম নয়। এর আগে বাম এবং তৃণমূল— উভয় জমানাতেই ব্রিগেডে বহু ধর্মীয় সমাবেশ হয়েছে। গত বছর ‘লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠ হয়েছে। সুতরাং, আইনশৃঙ্খলার সামগ্রিক দিক এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ খতিয়ে দেখে এত বড় জমায়েতের জন্য ব্রিগেডের মাঠকেই প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে সুবিধাজনক, নিরাপদ ও বাস্তবসম্মত পথ বলে মনে করা হচ্ছে।
অবশ্য রাজ্যে সরকার বদলের পরেই রাতারাতি এই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এমনটা না। রেড রোডের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে। সেখানে সামরিক কুচকাওয়াজ ছাড়া যে কোনও বড় ধরনের উৎসব বা অনুষ্ঠানের জন্য ফোর্ট উইলিয়ামের সবুজ সংকেত পাওয়া বাধ্যতামূলক। সেনা সূত্রের খবর, গত বছরই নমাজের প্রধান আয়োজক সংস্থাকে জানানো হয়েছিল যে, অনিমতি দেওয়া সম্ভব না। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে সেনা কর্তৃপক্ষের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানানোর পর, সেবার ‘শেষবারের মতো’ ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল।