ওঙ্কার ডেস্ক: দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুর স্টেশন চত্বরে রেলের উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে মঙ্গলবার গভীর রাতে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। শিয়ালদহ ও হাওড়া স্টেশনে সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানের পর যাদবপুর স্টেশন এলাকাতেও একই ধরনের পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিয়েছিল পূর্ব রেল। কিন্তু হকার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং বামপন্থী সংগঠনগুলির প্রবল প্রতিরোধের মুখে শেষ পর্যন্ত অভিযান কার্যত স্থগিত রাখতে বাধ্য হয় রেল কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গভীর রাতে রেল আধিকারিকদের সঙ্গে আরপিএফ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মীরা স্টেশন চত্বরে পৌঁছন। উচ্ছেদ অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকার হকাররা দ্রুত জড়ো হন। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন সিপিএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্য ও দলীয় কর্মীরাও। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন সিপিএমের যাদবপুর এলাকার নেতা দেবাশিস চক্রবর্তী, সুজন চক্রবর্তী-ঘনিষ্ঠ একাধিক বামপন্থী সংগঠক এবং সিটুর স্থানীয় নেতৃত্ব। তাঁরা উচ্ছেদ অভিযানের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, রেল কর্তৃপক্ষ কোনও পুনর্বাসন পরিকল্পনা ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করা হকারদের সরিয়ে দিতে চাইছে। তাঁদের দাবি, যাদবপুর স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় বহু পরিবার বছরের পর বছর ধরে দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে। বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ করলে শত শত মানুষ আর্থিক সংকটের মুখে পড়বেন। সিপিএম নেতৃত্বের বক্তব্য, উন্নয়নের নামে গরিব মানুষের রুজি-রুটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। সৃজন ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা না দিয়ে কোনও উচ্ছেদ অভিযান মেনে নেওয়া হবে না। আন্দোলনকারীরা রেলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানসূত্র বের করার দাবি তোলেন।
সম্প্রতি হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশনে চালানো অভিযানে শত শত অবৈধ দোকান ও স্টল সরানো হয়েছে বলেও রেলের তরফে উল্লেখ করা হয়। তবে যাদবপুরে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় প্রশাসন বড় ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারেনি। রাতভর বিক্ষোভ চলার পর অবশেষে উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত রাখা হয়। এতে আপাতত স্বস্তি ফিরেছে হকারদের মধ্যে। কিন্তু ভবিষ্যতে আবারও অভিযান চালানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।
হকার সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুনর্বাসনের লিখিত আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। অন্যদিকে রেলও স্টেশন এলাকা দখলমুক্ত করার পরিকল্পনা থেকে সরে আসেনি। ফলে যাদবপুর স্টেশনকে কেন্দ্র করে রেল প্রশাসন ও হকারদের এই সংঘাত আগামী দিনে আরও তীব্র আকার নিতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।