ওঙ্কার ডেস্ক: গত বছরের ডিসেম্বরে কলকাতায় আয়োজিত ‘মেসি গোয়াট ট্যুর’ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলায় সাময়িক স্বস্তি পেলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। কলকাতা হাই কোর্ট তাঁর বিরুদ্ধে আপাতত কোনও গ্রেপ্তারি পদক্ষেপ না করার নির্দেশ দিয়েছে। তবে একইসঙ্গে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে তাঁকে।
বুধবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলার শুনানি হয়। শুনানিতে অরূপ বিশ্বাসের আইনজীবী আদালতের কাছে আবেদন জানান, যাতে তাঁর মক্কেলকে গ্রেপ্তার করা না হয়। মামলার নথিপত্র এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা প্রদান করে। তবে আদালত জানিয়ে দেয়, এই নির্দেশের অর্থ তদন্তে কোনও বাধা সৃষ্টি করা নয়। বরং তদন্তকারী সংস্থা আইন মেনে তাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারবে।
মামলার সূত্রপাত কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অনুষ্ঠিত বহুল প্রচারিত ‘মেসি গোয়াট ট্যুর’ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। ওই অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসির উপস্থিতি নিয়ে ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু অনুষ্ঠান ঘিরে একাধিক বিতর্ক এবং অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। পরবর্তীতে অনুষ্ঠানের অন্যতম উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত অভিযোগ করেন, তাঁকে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হয়েছে এবং গোটা ঘটনায় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভূমিকা ছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়।
শুনানির সময় আদালত গোটা ঘটনাকে ঘিরে অসন্তোষ প্রকাশ করে। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, আন্তর্জাতিক মানের একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে যে ধরনের বিশৃঙ্খলা এবং বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা রাজ্যের ভাবমূর্তির পক্ষে সুখকর নয়। আদালত আরও জানায়, অভিযোগগুলির যথাযথ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং সত্য সামনে আসা জরুরি।
রাজ্যের তরফে আদালতে দাবি করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তদন্ত প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অন্যদিকে অরূপ বিশ্বাসের আইনজীবীর বক্তব্য ছিল, অভিযোগ দায়েরের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সময়ের ব্যবধান রয়েছে এবং তাঁর মক্কেল তদন্তে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তাই গ্রেপ্তারের কোনও প্রয়োজন নেই।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত আরোপ করে। অরূপ বিশ্বাসকে তদন্তকারী সংস্থার ডাকে হাজিরা দিতে হবে এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি রাজ্যের বাইরে যেতে পারবেন না। তাঁর পাসপোর্ট নিম্ন আদালতে জমা রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোনও সাক্ষীকে প্রভাবিত করা, ভয় দেখানো বা তদন্তে বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করা যাবে না বলেও স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
হাই কোর্ট তদন্তকারী সংস্থাকে নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে। মামলার অগ্রগতি সংক্রান্ত রিপোর্ট নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদালতে জমা দিতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। ফলে আপাতত গ্রেপ্তারির আশঙ্কা থেকে স্বস্তি পেলেও তদন্তের নজরদারির মধ্যেই থাকতে হবে অরূপ বিশ্বাসকে। এখন তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং আদালতের পরবর্তী শুনানিতে কী পর্যবেক্ষণ সামনে আসে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।