ওঙ্কার ডেস্ক: লেক টাউনের ভিআইপি রোড সংলগ্ন এলাকায় স্থাপিত ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির বিশাল মূর্তি ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সেটি সরিয়ে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে ভারী যন্ত্রপাতি এবং একাধিক ক্রেনের সাহায্যে মূর্তিটি অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় কৌতূহলী মানুষের ভিড়ও লক্ষ্য করা যায়।
গত বছর আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসির সম্মানে প্রায় ৭০ ফুট উচ্চতার এই মূর্তিটি স্থাপন করা হয়েছিল। উদ্বোধনের সময় এটি রাজ্য তথা দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। মেসির বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতিকে সামনে রেখে তৈরি হওয়া এই ভাস্কর্যকে ঘিরে লেক টাউন এলাকায় এক ধরনের পর্যটন আকর্ষণও তৈরি হয়েছিল। প্রতিদিন বহু মানুষ সেখানে ছবি তুলতে এবং মূর্তিটি দেখতে ভিড় জমাতেন। তবে মূর্তি স্থাপনের কিছুদিন পর থেকেই তার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ ছিল, প্রবল বাতাসের সময় কাঠামোটিকে দুলতে দেখা যায়। যেহেতু মূর্তিটি একটি ব্যস্ত সড়কের পাশে অবস্থিত ছিল, তাই সম্ভাব্য দুর্ঘটনার আশঙ্কা ক্রমশ বাড়তে থাকে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার পর সংশ্লিষ্ট দফতরের ইঞ্জিনিয়ার ও বিশেষজ্ঞরা কাঠামোটি পরীক্ষা করে দেখেন।
পরীক্ষার পর বিশেষজ্ঞদের রিপোর্টে কাঠামোগত কিছু ত্রুটির কথা উঠে আসে বলে জানা যায়। বিশেষত মূর্তির উচ্চতা, ওজনের ভারসাম্য এবং ভিত্তির স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এরপর জননিরাপত্তার স্বার্থে মূর্তিটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। প্রশাসনের মতে, মানুষের নিরাপত্তা কোনওভাবেই ঝুঁকির মুখে ফেলা যায় না, তাই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার থেকে শুরু হওয়া অপসারণের কাজে প্রথমে মূর্তির বিভিন্ন অংশ আলাদা করা হয়। এরপর বিশেষ ক্রেনের সাহায্যে ধাপে ধাপে সেটিকে নামানোর কাজ শুরু হয়। কাজ চলাকালীন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং যান চলাচলেও আংশিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়, যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।
মূর্তিটি সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, মূর্তিটিকে সম্পূর্ণভাবে বাতিল না করে ভবিষ্যতে অন্য কোনও উপযুক্ত এবং নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হতে পারে। তবে সেই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আপাতত জননিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই অপসারণের কাজ চলছে এবং পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে।