ওঙ্কার ডেস্ক: বৃহস্পতিবার সকালে ব্যস্ত সময়ে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড কলকাতায়। লালাবাজার থেকে প্রায় ৪০০ মিটারের মধ্যে আর এন মুখার্জি রোডে আগুন লেগেছে বলে খবর। সুত্রে জানা যাচ্ছে ওই এলাকায় গাড়ির যন্ত্রাং থেকেই আগুনের উৎপত্তি। ঘটনাস্থলে ইতিমধ্যেই পাঁচটি অগ্নি নির্বাপক গাড়ি পৌঁছে গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাছে তাঁরা।
পুলিশি সুত্রে খবর, আর এন মুখার্জি রোডে সকাল প্রায় ১০টা ৪৫ মিনিট নাগাদ একটি গাড়ির যন্ত্রাংশের গুদাম থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখে স্থানীয়রা চিৎকার করে দমকল ও পুলিশকে খবর দেন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় পুরো এলাকা। দূর থেকেও সেই ধোয়ার স্তর স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল।
দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থলটি ২১, আর এন মুখার্জি রোডে অবস্থিত একটি বহুতলের প্রথম তলায়। সেখানে গাড়ির খুচরো যন্ত্রাংশ, তেল ও অন্যান্য দাহ্য পদার্থ মজুত ছিল। গুদামের ভেতর থেকে প্রথমে একটি বিকট শব্দ শোনা যায়, তারপরই আগুন ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ছয়টি দমকল ইঞ্জিন। পুলিশ দ্রুত আশপাশের এলাকা খালি করে দেয় যাতে কেউ বিপদের মুখে না পড়ে।
দমকলের এক আধিকারিক জানান, গুদামে প্রচুর জ্বালনযোগ্য বস্তু থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তেলজাত দ্রব্য ও প্লাস্টিক সামগ্রীতে আগুনের তীব্রতা বেড়ে যায়। ধোঁয়ার কারণে কিছু সময় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়। ভবনের ভিতরে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা জানতে দমকলকর্মীরা গ্যাস মেকার যন্ত্র নিয়ে ভেতরে ঢোকেন। প্রাথমিকভাবে কোনও হতাহতের খবর মেলেনি, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নির্দিষ্ট নয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে। দমকলকর্মীরা জানিয়েছেন, ভেতরের তাপমাত্রা এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে ছাদ থেকে মাঝে মাঝে আগুনের ফুলকি বেরোচ্ছিল। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন আয়ত্তে আসে এবং ধীরে ধীরে এলাকা থেকে ধোঁয়া সরে যেতে শুরু করে।
আগুন লাগার পরই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। লালবাজার, বেন্টিঙ্ক স্ট্রিট ও ডালহৌসি অঞ্চলে যানজটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে সকালের অফিসযাত্রীদের পথ। পুলিশ যানবাহন ঘুরিয়ে দেয় বিকল্প রাস্তায়। ধোঁয়ার কারণে আশপাশের অফিস ও দোকানগুলিও কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখতে হয়। দমকলের প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে এবং গুদামের নিরাপত্তা নথি ও ফায়ার লাইসেন্স খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনায় শহরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও দ্রুত দমকলের উপস্থিতি ও কার্যকর পদক্ষেপে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে। দমকল দপ্তর জানিয়েছে, ভবনের অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনে গুদামের মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কলকাতার এই বাণিজ্যিক এলাকায় পরপর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রশাসনও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
