ওঙ্কার ডেস্ক: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি। জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবার শীর্ষ নেতা সইফুল্লা কাসুরির এক ভিডিও বার্তা সামনে আসতেই দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওতে জঙ্গি নেতা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, পাকিস্তান যদি ভবিষ্যতে ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে হাঁটে, তবে দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকে ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়তে হবে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন মুসলিম দেশের সঙ্গে ইজরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রশ্নে আমেরিকার সক্রিয় ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সেই আবহেই পাকিস্তানকে ঘিরে জল্পনা শুরু হয়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ভবিষ্যতে ইসলামাবাদকেও নতুন কূটনৈতিক অবস্থান নিতে হতে পারে। আর সেই সম্ভাবনাকেই কেন্দ্র করে উগ্রপন্থী সংগঠনগুলির ক্ষোভ প্রকাশ্যে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সামনে আসা ভিডিও বার্তায় লস্কর নেতা সইফুল্লা কাসুরি পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অত্যন্ত কড়া ভাষায় আক্রমণ শানান। তাঁর অভিযোগ, ইসলামিক আদর্শ থেকে সরে গিয়ে পাকিস্তান পশ্চিমি শক্তির চাপে সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ইজরায়েলের সঙ্গে কোনওরকম সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা হলে দেশের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানকে “ধ্বংস করে দেওয়া হবে”। এই মন্তব্য সামনে আসতেই পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ, পাকিস্তান নিজের মাটিকে এতদিন নানান জঙ্গি গোষ্টিকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে দিয়ে এসেছে। এমনকি ইসলাবাদ অকপটে স্বীকার করেছে জাতিসঙ্ঘ স্বীকৃত একাধিক জঙ্গি সংগঠনকে মদত দিচ্ছে। সম্প্রতি ইসলাবাদের শীর্ষ স্থানীয় নেতা প্রকাশ্যে বলেছিলেন ভারতের অপারেশন সিঁদুর-এর প্রেক্ষাপটে জঙ্গিগোষ্টিকে সুরক্ষা দিয়েছে পাক-সরকার।
অন্যদিকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরেই সামরিক বাহিনী, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং বিভিন্ন উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। অতীতে একাধিকবার অভিযোগ উঠেছে, জঙ্গি সংগঠনগুলিকে কৌশলগত কারণে ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সংগঠনগুলির একাংশই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরব হয়ে উঠছে। ফলে ইসলামাবাদের জন্য পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। এরই মধ্যে পাকিস্তানে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক জঙ্গি হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বালুচিস্তান, খাইবার পাখতুনখোয়া-সহ বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান অস্থিরতা, ইরানকে ঘিরে চাপ এবং আমেরিকার নতুন কূটনৈতিক সমীকরণের মধ্যে পাকিস্তান অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে। ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে শান্তি সমঝোতার জন্য ইসলাবাদকেই বেছে নেওয়া হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং সেনাপ্রধানকে সরাসরি হত্যার হুমকি ঘিরে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে প্রশাসনিক মহলে। গোটা ঘটনায় পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যেও।