ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের রাজগড় জেলার একটি গ্রামে গৃহবধূর উপর স্বামীর নৃশংস নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর অত্যাচারের শিকার হলেও সম্প্রতি সেই নির্যাতন চরম পর্যায়ে পৌঁছয়। গৃহবধূকে বাড়ির ভিতরে একটি খুঁটির সঙ্গে লোহার শিকল ও তালা দিয়ে বেঁধে রেখে মারধর করা হয়। শুধু তাই নয়, গরম লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে অভিযুক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত পারিবারিক অশান্তি থেকে। নির্যাতিতার দাবি, ঘটনার দিন রাতে মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরে স্বামী অকারণে তাঁর সঙ্গে বচসা শুরু করেন। এরপর তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠলে তিনি বাড়ি ছেড়ে থানায় যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু পথেই তাঁকে ধরে ফেলে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। তারপর গলায় লোহার শিকল পরিয়ে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়, যাতে তিনি বাইরে যেতে না পারেন বা কারও কাছে সাহায্য চাইতে না পারেন।
অভিযোগ, প্রায় একদিনেরও বেশি সময় ধরে তাঁকে ওই অবস্থায় আটকে রাখা হয়। সেই সময় বারবার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয় তাঁকে। গরম লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছ্যাঁকা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন ওই মহিলা। যন্ত্রণায় কাতর হলেও তাঁকে কোনওরকম সাহায্য করা হয়নি। বরং অভিযোগ না করার জন্য হুমকিও দেওয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত সুযোগ বুঝে বন্দিদশা থেকে পালাতে সক্ষম হন তিনি। বাড়িতে একটি পাথর পড়ে থাকতে দেখে সেটি দিয়ে শিকলের তালা ভেঙে ফেলেন। গলায় তখনও ঝুলছিল লোহার শিকল ও তালা। সেই অবস্থাতেই তিনি প্রায় ছয় কিলোমিটার পথ হেঁটে থানার উদ্দেশে রওনা দেন। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে থানায় পৌঁছে পুলিশের সামনে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন এবং নিজের উপর হওয়া অত্যাচারের কথা জানান।
মহিলার শারীরিক অবস্থা দেখে পুলিশও হতবাক হয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় এবং মেডিক্যাল পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন এবং পোড়ার দাগ মিলেছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং নির্যাতিতার বয়ানের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।