নিজস্ব সংবাদদাতা, মুর্শিদাবাদ: বেহাল দশায় গ্রামে আসেনা কোন অ্যাম্বুলেন্স। জল কাদা মারিয়ে বা খাটিয়ায় চেপে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বা হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয় গর্ভবতী মহিলাদের। খাটিয়াতে চাপিয়ে গর্ভবতী মহিলাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার এমনই ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিলেন গ্রামবাসীরা। ‘উন্নয়নের বাংলায়’ গ্রামের এই অব্যবস্থা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রীর নজর কাড়তে চান সুতি বিধানসভার হারোয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অর্ন্তগত পারাইপুর এলাকার মানুষ। প্রসূতিদের নিয়ে যাওয়ার এই বাহনের নাম দিয়েছেন গ্রামীণ অ্যাম্বুলেন্স। বৃহস্পতিবারের এই ছবি নিমেষে নেটিজেন দুনিয়ায় তোলপাড় ফেলেছে। ছি! ছি! পড়েছে নেট দুনিয়ায়। গ্রামবাসীদের দাবি খাতা কলমে রাস্তা আছে। কিন্তু যাতায়াত করা যায়না।
“উন্নয়ন রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে”। অনুব্রত মণ্ডলের এই উবাচ রাজ্যজুড়ে তোলপাড় ফেলেছিল। মুর্শিদাবাদের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরলেন সুতি বিধানসভা এলাকার পারাইপুরের বাসিন্দারা। ছবিতে স্পষ্ট, জল কাদায় বেহাল অবস্থা গ্রামে ঢোকার রাস্তা। নিজের ও গর্ভজাত সন্তানের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পায়ে হেঁটে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাচ্ছেন এক গর্ভবতী মহিলা। ওই মহিলার সঙ্গি জানালেন, স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাওয়ার প্রয়োজন হলে এভাবেই যেতে হয়। গ্রামে অ্যাম্বুলেন্স বা কোন গাড়ি ঢোকেনা। ওই গ্রামেরই অপর এক সন্তান সম্ভবার হেঁটে যাওয়ারও সামর্থ নেই। পাশের গ্রাম থেকে খাটিয়া এনেই তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে হাসপাতালে। চারজন কাঁধে নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এভাবে নিয়ে যাওয়াও যথেষ্ট বিপজ্জনক। গ্রামবাসীদের দাবি, এছাড়া বিকল্প কোন রাস্তা নেয়। স্থানীয় বাসিন্দা জইদুল শেখ বলেন, বহু বছর ধরে এই রাস্তা বেহাল হয়ে পড়ে রয়েছে। জন প্রতিনিধি বা স্থানীয় প্রশাসন কেউ সংস্কারে এগিয়ে আসেনি। তবে নির্বাচন এলেই ্ত পেতে ভোট চাইতে এসেছেন ভোটবাবুরা। শাসক দলের অনেকেই মন্তব্য করেছেন, এআই ভিডিও।
নিম্নচাপের জেরে গত আট দিন মুর্শিদাবাদ জেলা জুড়ে অনবরত বৃষ্টি ঝড়েছে। টানা বৃষ্টির জেরে জল কাদায় পারাইপুরে পায়ে হেঁটে ঢোকায় অত্যন্ত ঝুঁকির। এই গ্রামের নাম শুনেই পিছিয়ে যান অটো, টোটো চালক থেকে শুরু করে অ্যাম্বুলেন্স। গ্রামের মানুষ বাবুয়ের দড়ি দিয়ে বাঁধা খাটিয়ার নাম দিয়েছেন গ্রামীণ অ্যাম্বুলেন্স। এই খাটিয়ায় এখন প্রসূতি মহিলা সহ অসুস্থদের একমাত্র ভরসা। তাও আবার গ্রামে কারও বাড়িতে নেই এমন খাটিয়া। পাশের গ্রাম থেকেই এই খাটিয়া আনতে হয়। প্রতিক্রিয়া জানতে ফোন করা হলে ফোন ধরেননি স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক ইমানি বিশ্বাস।
