ওঙ্কার ডেস্ক: সাইবার প্রতারণার ফাঁদে ফেলে বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতির থেকে ৬ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ এক যুবকের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যে তদন্তে নেমে ২৫ বছর বয়সী অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তকে ঝাড়খণ্ড থেকে পাকড়াও করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের নাম মাজহার আলম ইসরাইল মিয়াঁ। ঝাড়খণ্ডের জামতারার বাসিন্দা তিনি। তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত ১০ রাজ্যে অন্তত ৩৬টি সাইবার প্রতারণার ঘটনার সঙ্গে জড়িত। ঝাড়খণ্ডের জামতারা সাইবার সেল এবং কর্মতণ্ড পুলিশ যৌথ ভাবে এই গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির সূত্রপাত হয় ফেব্রুয়ারির শেষ দিনে। ওই দিন বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি নিজের ক্রেডিট কার্ডের পয়েন্ট ভাঙাতে চেয়ে ব্যাঙ্কের কাস্টমার কেয়ার সার্ভিসে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন, কিন্তু টেলিফোন লাইন ব্যস্ত পান। এরপর তিনি কাস্টমার কেয়ার এর নম্বর পেতে ইন্টারনেট ঘাঁটতে থাকেন। তদন্তকারীরা জানান, তিনি ইন্টারনেটে একটি নম্বর খুঁজেও পান। যদিও তা ভুয়ো বলে পরে জানা যায়।
তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত নিজেকে কাস্টমার কেয়ার এক্সিকিউটিভ হিসেবে পরিচয় দেন। শুধু তাই নয় ওই বিচারপতিকে একটি লিঙ্ক পাঠান তিনি। তাঁকে একটি অ্যাপ ডাউনলোড করতে বলেন অভিযুক্ত। সেই কথা মতো অ্যাপ ডাউনলোড কররার চেষ্টা করেন বিচারপতি। কিন্তু আই ফোনে সেই অ্যাপ ডাউনলোড হচ্ছিল না। এর পর ভুয়ো ওই কাস্টোমার কেয়ার এগজিকিউটিভ তাঁকে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ব্যবহার করার পরামর্শ দেন। এর পর তিনি বাড়ির গৃহ সহায়কের ফোনে নিজের সিম কার্ড লাগিয়ে অ্যাপটি ডাউনলোড করেন। পুলিশ জানিয়েছে, অ্যাপটিতে ক্রেডিট কার্ডের বিবরণ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিচারপতির অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৬.০২ লক্ষ টাকা তুলে নেওয়া হয়। যখন বুঝতে পারেন তিনি প্রতারিত হয়েছেন, তখন মুম্বই পুলিশের দ্বারস্থ হন। একটি অভিযোগ দায়ের করেন। কাফ প্যারেড পুলিশ একটি মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করে। প্রায় ১০ দিন পর ঝাড়খণ্ড থেকে অভিযুক্তকে খুঁজে বের করতে সক্ষম হয়।