ওঙ্কার ডেস্ক: নয়াদিল্লিতে মঙ্গলবার সকালে অনুষ্ঠিত এনডিএ-র সংসদীয় দলের বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী নেত্রী তথা ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-এর মুখ্যসচেতক কাকলি ঘোষ দস্তিদার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নড্ডা-সহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যে সারিতে বসেছিলেন, সেই সামনের সারিতেই কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে বসানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর ডানদিকে পঞ্চম আসনে তাঁর বসার ব্যবস্থা করা হয়।
বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর ভেঙ্গে গেছে তৃণমূল। লোকসভায় ২০ জন সাংসদ তৃণমূল ছেড়ে বেনামী দল ন্যাশেনাল সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া তে যোগ দান করে। এই দল আবার কেন্দ্রের শাসকদল এনডিএ-র শরীক। সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে এনসিপিআই-এ যোগদানের পর এই প্রথম শাসকজোটের গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় বৈঠকে অংশ নেন কাকলি। তাঁকে প্রথম সারিতে স্থান দেওয়ায় দিল্লির শাসকজোটে তাঁর এবং তাঁর দলের রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণের প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাকে নতুন বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত প্রশ্নফাঁস রুখতে কেন্দ্র ইতিমধ্যেই লোকসভায় কঠোর বিল পেশ করেছে শাসক শিবির। তবে বিরোধীদের বিক্ষোভ ও হট্টগোলের কারণে সেই বিল নিয়ে আলোচনা শুরু করা সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতিতে সংসদের কৌশল নির্ধারণ, সরকারের আইন প্রণয়ন কর্মসূচি এবং বিরোধীদের মোকাবিলার রূপরেখা তৈরির লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে এনডিএ-র সংসদীয় দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও, আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত বিল প্রয়োজনীয় সংশোধন করে পুনরায় সংসদে পেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্র, এমন খবরঅ সামনে আসছে। সেই বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। ফলে চলতি অধিবেশনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে এই বৈঠকের গুরুত্ব ছিল যথেষ্ট।
এদিকে, বৈঠকের আগের রাতেই এনসিপিআই-এর লোকসভায় দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রথমে জানা গিয়েছিল, মঙ্গলবার দিল্লিতে এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অন্য সরকারি কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকার কারণে তাঁর দিল্লি সফর বাতিল হয়। সেই কারণে সোমবার রাতেই নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যদিও সেই বৈঠকে ঠিক কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।