ওঙ্কার ডেস্ক: ইরানকে ঘিরে পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে ভারতের জ্বালানি খাতে। বিশেষ করে রান্নার গ্যাস বা এলপিজি সরবরাহে দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে গৃহস্থালির জন্য এলপিজি সরবরাহকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন তেল শোধনাগারকে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ঘাটতি কিছুটা হলেও পূরণ করা যায়। একই সঙ্গে উৎপাদিত গ্যাসের একটি বড় অংশ সরাসরি গৃহস্থালির ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ রাখার কথাও বলা হয়েছে।
সংকটের সুযোগে যাতে কালোবাজারি বা অতিরিক্ত মজুতদারি না বাড়ে, সে দিকেও নজর দিয়েছে কেন্দ্র। এলপিজি সিলিন্ডার বুকিংয়ের নিয়মে পরিবর্তন এনে একটির পর আরেকটি বুকিংয়ের মধ্যে নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে অপ্রয়োজনীয় মজুত কমবে এবং আরও বেশি মানুষের কাছে গ্যাস পৌঁছনো সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, বাণিজ্যিক ক্ষেত্র বিশেষ করে হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং ছোট ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে সরবরাহ সাময়িকভাবে সীমিত করা হয়েছে। যদিও সম্পূর্ণ বন্ধ না করে ধাপে ধাপে সরবরাহ চালু রাখার চেষ্টা করছে সরকার, যাতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম একেবারে থমকে না যায়। জরুরি পরিষেবা যেমন হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবাকে এই পরিস্থিতিতে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।
এই সংকটের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতা। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় ভারতের এলপিজি আমদানি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশের মোট এলপিজি চাহিদার একটি বড় অংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ আরও বেড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প সরবরাহ পথ খোঁজা, অতিরিক্ত মজুত তৈরি করা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করার দিকেও জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।