ওঙ্কার ডেস্ক: ছত্তিশগড়ে মাওবাদী দমনে বড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। রাজ্যের দুর্গম জঙ্গলে পরিচালিত এক যৌথ অভিযানে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে এক শীর্ষ মাওবাদী কমান্ডার। দীর্ঘদিন ধরেই সে নিরাপত্তা বাহিনীর নজরে ছিল এবং একাধিক নাশকতা ও হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পরই ওই নির্দিষ্ট এলাকায় অভিযান শুরু করে জেলা রিজার্ভ গার্ড, স্পেশাল টাস্ক ফোর্স এবং কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীর যৌথ দল। জঙ্গলের ভেতরে তল্লাশি চালানোর সময় হঠাৎই মাওবাদীদের একটি সশস্ত্র দলের মুখোমুখি হয় নিরাপত্তা বাহিনী। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং শুরু হয় তীব্র গুলির লড়াই।
দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ ধরে গুলির লড়াই চলার পর মাওবাদীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এরপর এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে এক মাওবাদী নেতার দেহ উদ্ধার করে নিরাপত্তা বাহিনী। পরে পরিচয় নিশ্চিত করে জানা যায়, নিহত ব্যক্তি মুচকি কৈলাস, যার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অপরাধের অভিযোগ ছিল এবং তার মাথার ওপর ৫ লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।
অভিযানের পর ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ এবং বিস্ফোরক সামগ্রী। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল, ডেটোনেটর, তারসহ নানা ধরনের সরঞ্জাম রয়েছে, যা থেকে স্পষ্ট যে ওই এলাকায় মাওবাদীদের একটি সক্রিয় ঘাঁটি ছিল। নিরাপত্তা বাহিনীর আধিকারিকদের মতে, এই সাফল্য মাওবাদী সংগঠনের জন্য বড় ধাক্কা। নিহত কমান্ডারটি সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা ও অপারেশনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তার মৃত্যুতে ওই অঞ্চলে মাওবাদী কার্যকলাপে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে ছত্তিশগড়ে বিভিন্ন জেলায় মাওবাদী দমনে জোরদার অভিযান চালানো হচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনীর লাগাতার চাপের ফলে অনেক মাওবাদী আত্মসমর্পণ করছে, আবার সংঘর্ষে বহুজন নিহত হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, এই ধারাবাহিক অভিযানের ফলে ধীরে ধীরে মাওবাদীদের প্রভাব কমছে এবং জঙ্গল এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা আরও জোরদার হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযানের পর গোটা এলাকায় তল্লাশি ও নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে, যাতে কোনওভাবেই মাওবাদীরা পুনরায় সংগঠিত হতে না পারে। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।