ওঙ্কার ডেস্ক: ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও একধাপ এগোল নতুন এক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির মাধ্যমে। সম্প্রতি দুই দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এমন একটি প্রতিরক্ষা সমঝোতা চূড়ান্ত করেছে, যার ফলে উভয় দেশ একে অপরের ভূখণ্ডে নির্দিষ্ট সংখ্যক সেনা মোতায়েন করতে পারবে। এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
চুক্তি অনুযায়ী, ভারত এবং রাশিয়া দুই দেশই একে অপরের দেশে সর্বোচ্চ ৩,০০০ পর্যন্ত সেনা মোতায়েনের অনুমতি পাবে। শুধু সেনা নয়, নির্দিষ্ট সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক বিমানও এই ব্যবস্থার আওতায় এক দেশের ঘাঁটিতে অন্য দেশের উপস্থিত থাকতে পারবে। ফলে যৌথ সামরিক মহড়া, প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন কৌশলগত অভিযানে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সহজ ও কার্যকর হয়ে উঠবে।
এই সমঝোতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল লজিস্টিক সহায়তা। অর্থাৎ, এক দেশের সেনা অন্য দেশের ভূখণ্ডে অবস্থান করলে সেখানে জ্বালানি, খাদ্য, মেরামত পরিষেবা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামরিক সহায়তা সহজেই পাওয়া যাবে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান পরিচালনা বা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো অনেকটাই সুবিধাজনক হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বিশ্বরাজনীতির অস্থিরতার মধ্যে এই চুক্তি ভারত-রাশিয়া সম্পর্ককে আরও দৃঢ় ভিত্তি দেবে। বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল এবং ইউরেশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষায় এই ধরনের সহযোগিতা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। একইসঙ্গে এটি দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও সামরিক সমন্বয়ের গভীরতাকেও স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।
কূটনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে, এই চুক্তির মাধ্যমে ভারত তার বহুমুখী প্রতিরক্ষা কৌশলকে আরও শক্তিশালী করছে, যেখানে বিভিন্ন শক্তিধর দেশের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখে সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার ক্ষেত্রেও এই সমঝোতা এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারের সঙ্গে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করছে।