ওঙ্কার ডেস্ক: বৃহস্পতিবার শেয়ারবাজারে ধস নামল। টানা পাঁচ দিনের উত্থানের পর অবশেষে পতনের মুখ দেখল দেশের দুই প্রধান সূচক। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাজারে। দিনের শেষে নিফটি সূচক ০.৯৩ শতাংশ বা ২২২.২৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ২৩,৭৭৫.১০-এ। একইভাবে সেনসেক্সও বড় ধাক্কা খেয়ে ১.২০ শতাংশ বা ৯৩১.২৫ পয়েন্ট পড়ে গিয়ে বন্ধ হয় ৭৬,৬৩১.৬৫-এ। বাজারের এই পতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতার বার্তা দিয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দিনের ইন্ট্রাডে চার্টে নিফটির গতিবিধি ছিল সীমাবদ্ধ পরিসরের মধ্যে, তবে সামগ্রিকভাবে একটি নেতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ধারাবাহিকভাবে ‘লোয়ার হাই’ তৈরি হওয়ায় বোঝা যাচ্ছে বিক্রির চাপ ক্রমাগত বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে ইতিবাচক মনোভাব ফিরিয়ে আনতে হলে নিফটিকে ২৪,০০০-এর উপরে স্থায়ীভাবে উঠতে হবে। অন্যদিকে, ২৩,৬০০-এর নিচে নেমে গেলে আরও বড় পতনের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
এই দিনের ট্রেডিং সেশনে বেশ কিছু বড় সংস্থার শেয়ারে বিক্রির চাপ দেখা যায়। বিশেষ করে জিও ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস, ইন্টারগ্লোব এভিয়েশন এবং লারসেন অ্যান্ড টুব্রোর মতো সংস্থাগুলি উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতির মুখে পড়ে। তবে প্রধান সূচকগুলি দুর্বল থাকলেও বৃহত্তর বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীলতা দেখিয়েছে। নিফটি মিডক্যাপ এবং নিফটি স্মলক্যাপ সূচক যথাক্রমে ০.২৫ শতাংশ এবং ০.২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বোঝা যায়, মাঝারি ও ছোট সংস্থাগুলির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এখনও বজায় রয়েছে। সেক্টরভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্যাঙ্কিং খাতই মূলত বাজারকে নিচের দিকে টেনে নিয়ে গেছে। নিফটি প্রাইভেট ব্যাঙ্ক এবং নিফটি ব্যাঙ্ক সূচক অন্যান্য খাতের তুলনায় খারাপ পারফরম্যান্স করেছে। অন্যদিকে ধাতু খাত কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে, নিফটি মেটাল সূচক এদিন সবচেয়ে বেশি লাভ করা সেক্টর হিসেবে উঠে এসেছে।