ওঙ্কার ডেস্ক: স্কুলে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার প্রোটোকল নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নিল কর্ণাটক হাই কোর্ট। এই বিষয়ে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলা গ্রহণ করতে অস্বীকার করল আদালত, ফলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আইনি লড়াইয়ের পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেল।
ঘটনার সূত্রপাত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জারি করা একটি নির্দেশিকা ঘিরে। ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, স্কুলগুলিতে ‘বন্দে মাতরম’-এর নির্দিষ্ট অংশ, বিশেষ করে ছয়টি স্তবক, গাওয়া যেতে পারে। তবে এই নির্দেশিকা বাধ্যতামূলক কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতের দ্বারস্থ হন এক আইনজীবী। আবেদনকারীর বক্তব্য ছিল, পুরো গানটির কিছু অংশে হিন্দু ধর্মীয় ভাবধারার উল্লেখ রয়েছে, যা সব ধর্মের ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। তাই এই ধরনের নির্দেশিকা ধর্মনিরপেক্ষতার নীতির পরিপন্থী এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ বলেও দাবি তোলা হয়।
এই প্রেক্ষিতে মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে কর্ণাটক হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি বিভু বাখরু এবং বিচারপতি সি. এম. পুনাচার বেঞ্চে। শুনানির সময় আদালত প্রথমেই নির্দেশিকার ভাষা খতিয়ে দেখে। বিচারপতিরা স্পষ্টভাবে জানান, ওই নির্দেশিকায় হয়ত শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, যার অর্থ এটি বাধ্যতামূলক নয়, বরং সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। অর্থাৎ, কোনও স্কুল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতেই হবে এমন কোনও বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়নি।
আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করে যে, ‘বন্দে মাতরম’ যদিও জাতীয় গান হিসেবে স্বীকৃত, তবে তা গাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো বা বাধ্যতামূলক বিধান বর্তমানে নেই। ফলে এই ধরনের একটি অ-বাধ্যতামূলক নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া যুক্তিসঙ্গত নয় বলেই মনে করে বেঞ্চ। শুনানির সময় কেন্দ্রের পক্ষ থেকেও জানানো হয়, এই বিষয়টি আগেও দেশের সর্বোচ্চ আদালতে উত্থাপিত হয়েছিল এবং সেখানেও তা খারিজ করা হয়েছে। সেই দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে কেন্দ্র জানায়, বর্তমান মামলায় নতুন কোনও আইনি প্রশ্ন উঠে আসেনি, ফলে এটি গ্রহণযোগ্য নয়।