ওঙ্কার ডেস্ক: গত শনিবার একটানা বৃষ্টির জেরে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির প্রকোপে পরে উত্তরবঙ্গের জেলা গুলি। বানভাসি অবস্থায় ভেঙ্গে পরে অনেক ব্রিজ, ভেসে যায় রাস্তা, ধ্বস নামে পাহাড়ি রাস্তায়। বিপর্যস্ত হয়ে পরে সাধারণ জনজীবন। সরকারি নথি অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত ২৭ জনের মৃত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ অনেকে। উদ্ধার বাহিনী খোঁজ চালাছে। পাশাপাশি যেসব রাস্তা ভেঙ্গে পরেছে তাঁদের বিকল্প রাস্তা শুরু করেছে প্রশাসন।
উত্তরবঙ্গের ভয়াবহ পরিস্থিতি, সেখানকার সাধারণ মানুষ সহ সেখানে আটকে পরা পর্যটক দের অবস্থা পর্যবেক্ষন করতে সোমবার উত্তরবঙ্গে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি উত্তরবঙ্গ সফরে যাওয়ার আগে কলকাতা এয়ারপোর্টে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, বন্যায় প্রাণ হারানো ব্যাক্তিদের পরিবারকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে দোয়া হবে এবং পরিবারের একজনকে হোমগার্ডের চাকরি দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শনে যান। বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মিরিকে মঙ্গলবার যান তিনি। সেখানে গিয়ে সাধারণ মানুষদের আশ্বস্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী।
মঙ্গলবার আবহাওয়া দফতর জানিয়েছিল আর কোনো দুর্যোএর সম্ভাবনা নেই উত্তরবঙ্গে। বাঞ্চাসী নদীগুলিরও জলস্তর নেমে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক ভাবে ফেরানোর জন্য কাজে নেমে পরেছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন বন্যায় যা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা সম্পুর্নভাবে মেরামত করতে একবছরের বেশি সময় লাগবে। তিনি উত্তরবাঙ্গের মানুষদের পাশে থাকার প্রতিজ্ঞা করেছেন। তিনি বলেছেন জলে ভেসে যাওয়া বাড়ি ঘর বানিয়ে দেবে রাজ্য সরকার।
বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাস্তা। ধ্বস নে্মে ডুয়ার্স এর বিস্তীর্ন এলাকায়। সেই রাস্তা মেরামতির কাজ চলছে। ঘুরপথে যাতায়াতের ব্যাবস্থা করে হয়েছে। রোহণী রোড আপাতত বন্ধ আছে। রবিবার কিছুক্ষনের জন্য খোলা হয়েছিল রোহিণী রোড। বন্যায় ভেঙ্গে পরেছিল মিরিক দুধিয়া মধ্যবর্তী ব্রিজ। আপাতত একটি বিকল্প ব্রিজ তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি নিজে মিরিক পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। সেই ব্রিজ তৈরি হতে সময় লাগবে ২০ দিন মত, এমনটাই জানিয়েছে প্রিশাসন। হিল কার্ট রোগ এবং পাঙ্খিবাড়ি রোড খুলে দেওয়া হয়েছে সোমবার থেকেই। পর্যটকরা আপাতত সেই রাস্থা দিয়ে সমতলে নামছেন।
