মানুষের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হলো কান। কানের সাহায্যে আমরা চারপাশের শব্দ শুনতে পাই এবং শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করতেও সাহায্য পাই। কিন্তু বিভিন্ন কারণে কানের হাড়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটতে পারে। এই সমস্যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় অনেক ক্ষেত্রে Osteoma বা Otosclerosis-এর মতো রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়। এর ফলে শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া-সহ নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কানের হাড়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির লক্ষণ:
কানের হাড়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হলে প্রথমদিকে সব সময় স্পষ্ট লক্ষণ বোঝা যায় না। তবে ধীরে ধীরে কয়েকটি উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেমন—
১. কানে কম শোনা বা শ্রবণশক্তি ধীরে ধীরে কমে যাওয়া। ২. কানের মধ্যে ভোঁ ভোঁ বা শোঁ শোঁ শব্দ হওয়া। ৩. কানে চাপ অনুভব করা বা কান বন্ধ হয়ে আছে বলে মনে হওয়া। ৪. মাথা ঘোরা এবং শরীরের ভারসাম্য রাখতে অসুবিধা হওয়া। ৫. কখনও কখনও কানে ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভব করা।
এর ফলে কী কী অসুবিধা হয়?
কানের হাড়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হলে শব্দ কানের ভেতরের অংশে সঠিকভাবে পৌঁছাতে বাধা পেতে পারে। ফলে শ্রবণশক্তি কমে যায়। অন্যের কথা বুঝতে অসুবিধা হয় এবং স্বাভাবিক কথোপকথনেও সমস্যা দেখা দেয়। দীর্ঘদিন এই সমস্যা চলতে থাকলে সামাজিক জীবন, পড়াশোনা এবং কর্মক্ষেত্রে অসুবিধা হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে কানে ক্রমাগত শব্দ শোনা, মাথা ঘোরা এবং মানসিক অস্বস্তিও তৈরি হয়।
উপশম ও প্রতিকারের উপায়:
এই সমস্যার উপসর্গ দেখা দিলে প্রথমেই একজন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ বা ENT চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী কানের পরীক্ষা এবং শ্রবণশক্তির পরীক্ষা (Audiometry) করতে পারেন।
রোগের ধরন ও মাত্রা অনুযায়ী চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে নিয়মিত পর্যবেক্ষণই যথেষ্ট। শ্রবণশক্তি কমে গেলে হিয়ারিং এইড ব্যবহার করতে হতে পারে। নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি কানে নিজে থেকে কোনও ওষুধ বা তেল ব্যবহার করা উচিত নয়। কানের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে উচ্চ শব্দ এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কানের হাড়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি অবহেলা করা উচিত নয়। প্রাথমিক পর্যায়ে লক্ষণ শনাক্ত করে সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাই কানে কোনও অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।