ওঙ্কার ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের অস্থিরতা এবং পশ্চিম এশিয়ার চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর আরোপিত বিশেষ অতিরিক্ত এক্সাইজ শুল্কে বড়সড় কাটছাঁট করা হয়েছে, যার ফলে তেল সংস্থাগুলির ওপর চাপ কিছুটা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পেট্রোলের ওপর লিটার প্রতি এক্সাইজ শুল্ক ১৩ টাকা থেকে কমিয়ে ৩ টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে ডিজেলের ক্ষেত্রে লিটার প্রতি ১০ টাকার শুল্ক সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ক্রমাগত বাড়তে থাকায় তেল বিপণন সংস্থাগুলির ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেই পরিস্থিতিতে খুচরো দামে বড়সড় বৃদ্ধি না করে সংস্থাগুলির ক্ষতি কিছুটা সামাল দিতেই কেন্দ্র এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এর ফলে সংস্থাগুলি কিছুটা স্বস্তি পেলেও সরকারের রাজস্ব আয়ে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত মূলত বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা নিয়ন্ত্রণে রাখার কৌশল। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হলে বা দাম আরও বাড়লে যাতে দেশীয় বাজারে হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধির চাপ না পড়ে, তার জন্যই এই উদ্যোগ।
তবে সাধারণ ভোক্তাদের জন্য এই সিদ্ধান্তে তাত্ক্ষণিকভাবে স্বস্তি মিলবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকলে শুল্ক কমানোর প্রভাব খুচরো মূল্যে পুরোপুরি প্রতিফলিত নাও হতে পারে। ফলে পাম্পে গিয়ে গ্রাহকরা কতটা দাম কম অনুভব করবেন, তা অনেকটাই নির্ভর করছে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতির ওপর।