
ওঙ্কার ডেস্ক: গ্রেফতারির হাত থেকে একদিনের জন্য রেহাই পেলেন অর্জুন। গত ২৬ মার্চ জগদ্দল গুলিকাণ্ডে পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতাই পরওয়ানা জারি করেছিল। অভিযোগ, তৃণমূলের এক কর্মীকে গুলি করার ঘটনায় তিনি জড়িত ছিলেন। জগদ্দলের ওই ঘটনায় পুলিশ অর্জুনে সিং-কে গ্রেফতার করার আবেদন জানিয়েছিল ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে।। তার ভিত্তিতে মঙ্গলবার ব্যারাকপুর মহকুমা আদালত অর্জুন সিং এর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার আনুমোদন দেয়। এই ঘটনায় দলীয় সহকর্মীর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন দিলীপ ঘোষ। দিলীপের কথায়, ”যেদিন থেকে অর্জুন সিং বিজেপিতে এসেছেন সেদিন থেকেই তাঁর পিছনে পুলিশ লেগে আছে। একবার এসপি ৫৬টি গাড়ি নিয়ে তাঁর বাড়িতে হামলা করেছিল। আসলে বিরোধী কাউকে থাকতে দেবে না এরা। যার একটু শক্তি আছে, তাঁকে শেষ করার চেষ্টা। ওঁকে টার্গেট করেছে ওরা। অর্জুনকে রাজনীতি করতে দেবে না। কিন্তু তিনি লড়ে আসছেন, পার্টি ওঁর সঙ্গে আছে।” তিনি এও বলেন, ”অর্জুন সিংয়ের বিরুদ্ধে যে ১০০-র বেশি মিথ্যে মামলা রয়েছে তা সকলে জানে। এমন কী আদালতও জানে। তিনি তো তার বিরুদ্ধে লড়ছেনই, পার্টিও লড়বে।”
যদিও অর্জন সিং অবশ্য আগেই দাবি করেছিলেন, যে তাঁকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে গ্রেফতার করে খুন করার চক্রান্ত হচ্ছে! তাই গ্রেফতারি পরোয়ানার বিরুদ্ধে আদালতেও গেছেন অর্জুন। এই প্রথম নয়, আগেও তৃণমূল সরকার এবং রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে তাঁকে ফাঁসানোর অভিযোগ তুলেছেন প্রাক্তন সাংসদ। কিন্তু বারবার তাঁকেই কেন টার্গেট করা হচ্ছে ? এই প্রশ্নের জবাবে দিলীপ কার্যত একটু খোঁচাই দেন সহকর্মীকে। স্পষ্ট বলেন, ”উনি তো একটু এদিক-ওদিক করেন, তার জন্য সমস্যা হয়ে যায় কর্মীদের পক্ষে। অর্জুন সিংয়েরও স্ট্যান্ড ঠিক করা দরকার।” অর্জুন সিংয়ের দলবদলের রীতি নিয়েই এই কটাক্ষ হানেন দিলীপ ঘোষ।
বর্তমান বিজেপি নেতা অর্জন সিং এর রাজনৈতিক পথচলা যে তৃণমূলের হাত ধরে সে কে না জানে! ২০০৪ সালে তৃণমূলের টিকিটে ব্যারাকপুর কেন্দ্র থেকে প্রথমবার লোকসভা ভোটে লড়ে সিপিএমের কাছে হেরে গিয়েছিলেন তিনি। তবে পরবর্তী সময়ে তৃণমূলের টিকিটে ভাটপাড়ার চার বারের বিধায়ক হন। কিন্তু ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটের আগে দল বদলে অর্জুন বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। সেই টিকিটে লড়ে জেতার পর ব্যারাকপুরে সাংসদ হন। তার পর তিন বছরের মধ্যে আবার তৃণমূলে যোগ দেন অর্জুন।
গত লোকসভা ভোটে অর্থাৎ ২০২৪ সালে ব্যারাকপুর থেকেই তাঁকে তৃণমূল টিকিট দেবে ভেবেছিলেন অর্জুন সিং। কিন্তু তেমনটা না হওয়ায় অর্জুন আবার বিজেপিতে ফেরেন। তাই তাবড় বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ আদতে কী বলতে চেয়েছেন তা সকলের কাছেই পরিষ্কার।
অর্জুন বলেন, ‘‘পুলিশ আমার বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে মামলা করেছিল। ওই এফআইআর ভুয়ো। তা ছাড়া এই কোর্টের (ব্যারাকপুর নিম্ন আদালত) উপর তো আমার ভরসা ছিল না। তাই হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছি। আইনি লড়াইয়ের জন্য আমি প্রস্তুত।’’ আপাতত হাইকোর্টের নির্দেশে তাঁর বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ‘কড়া পদক্ষেপ’ নেওয়া যাবে না।বুধবার বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত মৌখিক ভাবে এই নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার পরবর্তী শুনানি বৃহস্পতিবার।