ওঙ্কার ডেস্ক : স্ত্রী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের ভরণপোষণের দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন না স্বামী। তাঁদের জীবনধারণের খরচ জোগানো প্রত্যেক স্বামীর পবিত্র কর্তব্য। সম্প্রতি একটি মামলার শুনানিতে এমনই পর্যবেক্ষণ করেছে এলাহাবাদ হাই কোর্ট। একই সঙ্গে স্ত্রীর ভরণপোষণের ক্ষেত্রে স্বামীর আইনি দায়বদ্ধতার কথাও স্পষ্ট করেছে আদালত।
উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা পিঙ্কি বর্মা স্বামীর কাছে খোরপোশের দাবি জানিয়েছিলেন। কানপুর নগরের একটি পারিবারিক আদালত তাঁর জন্য ভরণপোষণের অর্থ নির্ধারণ করে। তবে সেই পরিমাণ বাড়ানোর আবেদন নিয়ে এলাহাবাদ হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন পিঙ্কি। বিচারপতি প্রবীণকুমার গিরির বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। শুনানির সময় মনুস্মৃতির একাদশ অধ্যায়ের ১০ নম্বর শ্লোকের উল্লেখ করেন বিচারপতি। তাঁর পর্যবেক্ষণ, প্রাচীন ওই গ্রন্থে স্ত্রী, নাবালক সন্তান এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ভরণপোষণকে সমর্থ ব্যক্তির পবিত্র কর্তব্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের একটি পুরনো রায়ের কথাও তুলে ধরেন বিচারপতি। ২০২২ সালে ‘অঞ্জু গর্গ বনাম দীপক কুমার গর্গ’ মামলায় শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল, স্ত্রী ও নাবালক সন্তানদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া স্বামীর পবিত্র দায়িত্ব। এলাহাবাদ হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, আইনত বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার পর স্ত্রী যদি প্রমাণ করতে পারেন যে নিজের ভরণপোষণের খরচ বহন করার মতো সামর্থ্য তাঁর নেই, তবে সেই দায়িত্ব স্বামীকে নিতে হবে। এটি কেবল সামাজিক বা নৈতিক দায়িত্ব নয়, আইনি বাধ্যবাধকতাও। প্রচলিত সামাজিক রীতিনীতি বা পুরনো অভ্যাসের অজুহাতে এই দায় এড়ানো যায় না বলেও জানায় আদালত।