ওঙ্কার ডেস্ক: বৃহস্পতিবার ভরা সন্ধ্যায় জনসমক্ষে খুন হয়েছিলেন ভাঙড় তৃণমূল নেতা রাজ্জাক খান। সেই ঘটনায় ইতিমধ্যে ৪ জনকে গ্রেফতার করেছিল ভাঙড় পুলিশ। ১৪ জুলাই সোমবার রাজ্জাক খুনের ষড়যান্ত্রকা্রি রফিকুল খানকে হাসনাবাদ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর।
পুলিশি সূত্রে খবর সোমবার গভীর রাতে উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদের সদরপুর এলাকা থেকে চকমরিচার বাসিন্দা রফিকুল খানকে পাকড়াও করে তদন্তকারীরা। পুলিশের দাবি, রফিকুল এই হত্যার ছক কষায় প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত এবং পূর্বপরিকল্পিত খুনের অভিযোগেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড আচমকা নয়, বরং খুনের অন্তত ১৫ দিন আগে থেকেই রাজ্জাক খানকে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষা হচ্ছিল। তবে তখন সুযোগ না মেলায় ষড়যন্ত্রকারীরা পিছু হটে। পরে ফের নতুনভাবে পরিকল্পনা করে নির্জন এলাকায় রেজ্জাক খাঁকে ডেকে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।
রবিবারই এই মামলায় ধৃত হয় মোফাজ্জেল মোল্লা। ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা স্পষ্ট অভিযোগ এনেছেন যে, মোফাজ্জেল মোল্লা আইএসএফ-এর হয়ে এই হত্যাকাণ্ডে মদত দিয়েছে। যদিও ধৃত মোফাজ্জেল নিজেও তৃণমূল নেতা বলেই পরিচিত। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, রাজ্জাক হত্যাকাণ্ডে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বড়সড় ভূমিকা পালন করছে। ধৃতদের তালিকায় রয়েছে আজাহারউদ্দিন মোল্লার নামও। তিনি একসময় আইএসএফ-এর সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে শওকত মোল্লার হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন। জানা যাচ্ছে, একবার বোমা বাঁধতে গিয়ে আহত হওয়ার পরই দলবদল করেন আজাহারউদ্দিন। তবে সদ্য গ্রেফতার হওয়া রফিকুল খান কোন রাজনৈতিক শিবিরের সদস্য, তা এখনও স্পষ্ট করতে পারেনি পুলিশ। ফলে গোটা হত্যাকাণ্ডের রাজনৈতিক যোগ এবং অন্তর্ঘাত নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি।
রাজ্জাক খান খুনের পরপ্রেক্ষিতে ভাঙড় এবং সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অশান্ত হওয়ার আশঙ্কায় এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশবাহিনী। পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় টহলদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং যেকোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা কঠোর হাতে দমন করা হবে। অন্যদিকে, শাসক ও বিরোধী শিবিরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে সরগরম দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক অঙ্গন।
