নিজস্ব সংবাদদাতা : আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় রাজ্যে তো বটেই, দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও তোলপাড় চরম আকার নেয়। তবু এক বছর পেরোলেও মেলেনি ন্যায়বিচার, এই অভিযোগে ফের পথে নামলেন জুনিয়র ডাক্তাররা। শুক্রবার রাতভর শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড়ে মশাল হাতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। ফিরে আসে ২০২৪-এর আঁচ। সেখানে উপস্থিত হন নির্যাতিতার বাবা-মা। মঞ্চে উঠে অভয়ার মা বলেন, “আজও প্রতি রাতে মেয়ের কান্না শুনি। যতই ব্যারিকেড থাক, আগামীকাল (শনিবার) নবান্ন অভিযান হবেই। আমাদের সঙ্গে থাকার আহ্বান জানাই।” আক্ষেপের গলায় নির্যাতিতার বাবা বলেন, “এক বছর হয়ে গেল, তবু সুবিচার নেই। সিবিআই উত্তর দিতে পারেনি, প্রশাসনও সহযোগিতা করেনি।”
তাঁর অভিযোগ, অরাজনৈতিক এই নবান্ন অভিযানকে ভয় পাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী, তাই পুলিশ নামিয়ে এই অভিযান রুখতে চাইছেন। তৃণমূল বাদে বাকি সবাইকে এই অভিযানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
২০২৪ সালের ৮ অগস্ট রাতে আরজি কর হাসপাতালের চতুর্থ তলার সেমিনার হলে রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয় অভয়ার। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা যায়— ধর্ষণের পর খুন। আন্দোলনকারীদের দাবি, মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায় ছাড়া বাকিরা এখনও অধরা। রহস্যময় কারণে তদন্তও এগোচ্ছে না।
শুক্রবার গভীর রাতে কলেজ স্কোয়ার থেকে মশাল মিছিলের ডাক দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্ট। স্লোগানে গর্জে উঠছে— “তিলোত্তমার বিচার চাই”, “নিরাপত্তাহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মানি না, মানব না।”
নির্যাতিতার মা বাবা যতই একে অরাজনৈতিক আন্দোলন বলুন না কেন, তবু এই আন্দোলনে বিজেপি যুক্ত হওয়ায় এও অভিযানকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারি, “নবান্ন অভিযানে কারও গায়ে পুলিশ হাত তুললে, গোটা রাজ্য ৭২ ঘণ্টা স্তব্ধ হবে।” পাল্টা জবাব বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনি বলেন, “এটি বিজেপি পরিচালিত কর্মসূচি।”
