ওঙ্কার ডেস্ক : কিংবদন্তী প্লেব্যাক গায়িকা আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে দেশবাসীর সঙ্গে শোক প্রকাশ করেছেন শচীন টেন্ডুলকার এবং বিরাট কোহলি। রবিবার মুম্বাইয়ে ৯২ বছর বয়সে আশাহীন হল দেশ।
অসুস্থতার কারণে শনিবার মুম্বাইয়ের ব্রীচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল গায়িকাকে। কিন্তু তাঁর সুস্থতার আশা নিভে গেল রবিবার সকালে। সোমবার বিকেল ৪টায় শিবাজি পার্কে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
আশা ভোঁসলের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক ছিল আরেক কিংবদন্তী শচীন তেন্ডুলকারের। আশা ভোঁসলের প্রয়ানে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন বার্তা লিখেছেন তিনি। বলেছেন, পদ্মবিভূষণ পুরস্কারপ্রাপ্ত এই শিল্পীকে তাঁর গানের মাধ্যমেই সর্বদা স্মরণ করবেন। তিনি লিখেছেন, ভারতের জন্য তো বটেই, বিশ্বজুড়ে সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য এটি একটি গভীর শোকের দিন। আমাদের কাছে আশা ছিলেন পরিবারেরই একজন। আজ আমরা যে শোক অনুভব করছি, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। এক মুহূর্তে হৃদয় স্তব্ধ হয়ে যায়, আবার পরক্ষণেই ভেসে যায় তাঁর উপহার দেওয়া অগণিত সুরের মাঝে।” তিনি আরও লিখেছেন, “মনে হচ্ছে যেন সময় নিজেই থমকে গেছে। তবুও তাঁর চিরন্তন গানের মাধ্যমে তিনি চিরকাল অমর হয়ে থাকবেন। আমাদের জীবনকে উষ্ণতা, মাধুর্য এবং অবিস্মরণীয় সঙ্গীতে ভরিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাই। আমরা আপনাকে ভাষায় প্রকাশ করার চেয়েও বেশি মিস করব।”
শচিনের মতোই শোক প্রকাশ করেছেন বিরাট কোহলি। ইনস্টাগ্রাম-এ তিনি লিখেছেন, “শান্তিতে থাকুন, আশা ভোঁসলে জি। আপনার কণ্ঠ লক্ষ লক্ষ মানুষের মন ছুঁয়ে গেছে এবং আমাদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন। ওম শান্তি।”
ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর এক্স-এ আশা ভোঁসলের একটি ছবি শেয়ার করেছেন। সেইসঙ্গে লিখেছেন, “কিংবদন্তি আশা ভোঁসলে জির মৃত্যুতে শোকাহত। তাঁর কমনীয়তা এবং অতুলনীয় প্রতিভা সবসময় আমাদের স্মৃতিতে থাকবে!”
একটি বিশাল সময় জুড়ে আশা ভোঁসলে ছিলেন প্রবাদপ্রতিম গায়িকা। ১৯৪৩ সালের মারাঠি ছবি ‘মাঝা বল’-এর জন্য প্লেব্যাকের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেন। ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে জো দিল কো’, ‘দো লাফজোন কি হ্যায় দিল কি কাহানি’, ‘কেয়া গজব করতে হো জি’, ‘ও হাসিনা জুলফোনওয়ালে জানে জাহান’, এবং ‘ইয়ে লডকা হ্যায় আল্লাহ কইসা হ্যায় দিওয়ানা’-এর মতো উল্লেখযোগ্য গানের জন্য চিরস্মরণীয়। হিন্দি ছাড়াও, তিনি প্রায় 20টি ভারতীয় এবং আন্তর্জাতিক ভাষায় গান করেছেন।
২০০৬ সালে আশা ভোঁসলে জানিয়েছিলেন, তাঁর গাওয়া প্রায় 12,000 গান রয়েছে। তার উপর কয়েক দশক দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি শঙ্কর-জয়কিষাণ, আর ডি বর্মণ, ও পি নায়ার, ইলাইয়ারাজা, বাপ্পি লাহিড়ী এবং এ আর রহমানের মতো প্রখ্যাত সঙ্গীত পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করেছেন। কর্মজীবন জুড়ে তিনি তাঁর অনেক উল্লেখযোগ্য গানের জন্য অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন। ২০০০ সালে তিনি মর্যাদাপূর্ণ দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে ভূষিত হন এবং একই বছর পদ্মবিভূষণ লাভ করেন।