ওঙ্কার ডেস্ক:নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল। রবিবার কালীঘাট থেকে নাম প্রকাশ করা হয়। প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে সঞ্চিতা প্রধান দে-কে। পরিচিত হেভিওয়েটদের বদলে একেবারে নতুন মুখেই ভরসা রাখল কালীঘাটের জোড়াফুল শিবির।
নন্দীগ্রামে তৃণমূল কাকে প্রার্থী করবে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা ছিল। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাধিক নাম নিয়েও আলোচনা চলছিল। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের এই আসনে লড়বেন কি না, তা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেই সম্ভাবনার কোনওটিই বাস্তবায়িত হল না। সঞ্চিতার নাম ঘোষণা করে চমক দিল তৃণমূল কংগ্রেস। শুভেন্দু অধিকারীর ছেড়ে যাওয়া আসনে এবার নতুন মুখকে সামনে রাখল দল। প্রার্থী ঘোষণার পরই নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক মহলে তাঁকে নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের কাছেও তিনি খুব পরিচিত মুখ নন। ফলে তাঁর রাজনৈতিক ও পেশাগত পরিচয় নিয়ে শুরু হয়েছে খোঁজখবর।
সঞ্চিতা নন্দীগ্রামের বয়াল-২ এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বয়স ৪০ বছর। পেশাগত জীবনে তিনি বয়াল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত নন্দীগ্রাম-২ পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। একই সময়ে পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন সঞ্চিতা। ২০১৪ সালের প্রাথমিকের টেট পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। সেই মামলায় ২০২২ সালে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে ২৬৯ জনের চাকরি বাতিল হয়েছিল। সেই তালিকায় সঞ্চিতার নামও ছিল। পূর্ব মেদিনীপুরের মোট ৩০ জনের নাম ওই তালিকায় ছিল বলে জানা যায়। পরে সঞ্চিতা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে তিনি ফের চাকরি ফিরে পান। আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচনে তিনি কী ক্যারিশ্মা দেখান আপাতত সেদিকেই নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।