ওঙ্কার ডেস্ক: ভাঙড়ে তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার কনভয়কে ঘিরে ভয়াবহ দুর্ঘটনার জেরে উঠল একাধিক প্রশ্ন। শনিবার দুপুরে বিধায়কের কনভয়ের সঙ্গে থাকা কলকাতা পুলিশের পাইলট কার হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা একটি মোটরবাইককে সজোরে ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলেই গুরুতর জখম হন বাইক আরোহী। পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর।
দুর্ঘটনার পর থেকেই তৎপর হয়ে ওঠে লালবাজার। কলকাতা পুলিশের জয়েন্ট সিপি ইস্টকে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, পাইলট কারটি মেয়াদ উত্তীর্ণ ছিল কি না, দুর্ঘটনার মুহূর্তে কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছিল কি না, এসব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের গাড়ির চালকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হলেও তাঁকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি। এ নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। অনেকের প্রশ্ন, সাধারণ নাগরিক এমন দুর্ঘটনা ঘটালে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার হতো, তবে সরকারি কনভয়ের চালকের ক্ষেত্রে এত দেরি কেন?
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভাঙড় থেকে কলকাতার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন বিধায়ক শওকত মোল্লা। বামনঘাটার কাছে পৌঁছনোর পর হঠাৎ করেই পাইলট কারটির গতি বেড়ে যায় এবং নিয়ন্ত্রণ হারায়। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, গাড়ির অ্যাক্সেলেটর হঠাৎ ভেঙে যাওয়াতেই এই বিপত্তি। গাড়িটি প্রথমে মোটরবাইককে আছড়ে ফেলে, তারপর পাশের বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা মারে। ধাক্কায় পাইলট কারের সামনের অংশ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে থেমে যায় বাইক চালকের জীবনও। মাত্র কয়েক ফুট দূরেই ছিলেন বিধায়ক শওকত মোল্লা। দ্রুত ব্রেক কষে তাঁর গাড়ির চালক গাড়ি থামিয়ে দেন বলেই বড় বিপদ থেকে রক্ষা পান বিধায়ক। যদিও তাঁর গাড়ি অক্ষত থাকে, পাইলট কার ও বাইক প্রায় ভেঙেচুরে যায়।
শওকত মোল্লা নিজে আহত যুবককে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা। সরকারি কনভয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি ব্যবহার করা হচ্ছিল কেন? ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরও চালককে গ্রেফতার না করায় নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে কলকাতা পুলিশ। ডিসি ট্রাফিক অবশ্য জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তে কোনও গাফিলতি হবে না।
