ওঙ্কার ডেস্ক : দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে টানা বর্ষণে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি। পশ্চিম মেদিনীপুর, হুগলি, বাঁকুড়া, হাওড়া, পূর্ব মেদিনীপুর-সহ একাধিক জেলা প্লাবিত। ডিভিসির (DVC) জল ছাড়ার সঙ্গে একটানা বৃষ্টির দাপটে বহু এলাকা কার্যত জলমগ্ন। প্রশাসনের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চালু হয়েছে একাধিক ত্রাণশিবির। তবে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রবিবার থেকে ফের প্রবল বর্ষণের আশঙ্কায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সরকারের অন্দরে।
গত সপ্তাহের শুরু থেকে লাগাতার বৃষ্টির জেরে গড়বেতা, ঘাটাল, আরামবাগ, গোঘাট, সিউড়ি, আমতা-২ ব্লক সহ বহু এলাকা জলমগ্ন। বিশেষ করে গড়বেতা-১ ও গড়বেতা-২ ব্লকে ১৪টি অঞ্চলে প্লাবনের ছবি ভয়াবহ। বন্যার জেরে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আগড়া, ধাদিকা, খরকুশমা, বড়মুড়া, সন্ধিপুর, গরঙ্গা, পিয়াশালা, সারবত, আমলাশুলি প্রভৃতি অঞ্চল।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে গড়বেতা অঞ্চলে ২১টি ত্রাণশিবির চালু করা হয়েছে। আশ্রয় নিয়েছে প্রায় আড়াই হাজার মানুষ। প্রবীণ বাসিন্দাদের মতে, এর আগে ১৯৭৮ সালে এমন ভয়ঙ্কর জলবন্দি পরিস্থিতির মুখে পড়েছিল এলাকা। জলস্তরের হঠাৎ উত্থানের জন্য DVC-র জলছাড়াকেই দায়ী করছেন স্থানীয়রা। হাওড়ার আমতা-২ নম্বর ব্লকের ভাটোরা দীপাঞ্চলে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বহু মানুষ। জলের তোড়ে গায়েনপাড়া এবং কুলিয়া এলাকার বাঁশের সাঁকো ভেসে গিয়েছে। একমাত্র সংযোগ ছিল ফেরি সার্ভিস তাও নদীতে প্রবল স্রোতের কারণে বন্ধ।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি তৎপর হয়েছেন। নবান্ন থেকে সংশ্লিষ্ট জেলার মন্ত্রীদের বাড়তি নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরে মানস ভুঁইয়া, হুগলিতে ফিরহাদ হাকিম এবং বাঁকুড়া-পুরুলিয়ায় মলয় ঘটককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তাদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে প্রতি ঘণ্টায় পরিস্থিতির রিপোর্ট নিচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বৃষ্টির প্রকোপ কিছুটা কমলেও স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, রবিবার থেকে ফের দক্ষিণবঙ্গজুড়ে শুরু হতে পারে ঝড়বৃষ্টি। বিশেষ করে হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ-সহ প্রায় ১৫টি জেলায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
কলকাতাতেও রবিবার থেকে মঙ্গলবার বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। শনিবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং শুক্রবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৯.৬ ডিগ্রি, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৩.৪ ডিগ্রি কম। পরবর্তী কয়েক দিনও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
