ওঙ্কার ডেস্ক: কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে গত বুধবার ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক ঘটনায় ১৪ বছরের এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। অভিযোগ, হাসপাতালের পোশাক পরিহিত এক ব্যাক্তি নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে কিশোরীকে ভুল বুঝিয়ে পুরুষদের শৌচালয়ে নিয়ে গিয়ে তাকে হেনস্থা করেন। কিছুক্ষণ পর কিশোরীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে অভিযুক্ত যুবককে ধরে ফেলেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করে এবং তার বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু করে।
ঘটনার পর কাঁদতে কাঁদতে কিশোরী তার মাকে জানিয়েছে, “আমি ওকে ভালো মানুষ ভেবেছিলাম।” তার এই বক্তব্যে স্পষ্ট যে, সে যুবককে বিশ্বাস করে তার সঙ্গে গিয়েছিল এবং কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, সে সম্পর্কে কিছুই বুঝতে পারেনি।
পুলিশ হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে, যাতে অভিযুক্ত যুবককে কিশোরীকে শৌচালয়ের দিকে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। ধৃত যুবক অতীতে শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালের অস্থায়ী কর্মী ছিলেন, এবং তার এসএসকেএম হাসপাতালে যাতায়াত ছিল। তদন্তকারীরা তার ডিএনএ পরীক্ষা এবং গোপন জবানবন্দির অনুমতি চেয়েছেন। পকসো আদালত ধৃত যুবককে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর এই ঘটনায় এসএসকেএম কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পৃথকভাবে রিপোর্ট চেয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনা হাসপাতালগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কর্মীদের পরিচিতি যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা পুনরায় সামনে এনেছে। এই ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কর্মীদের পরিচিতি যাচাইয়ের গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হাসপাতালগুলোর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধ করা সম্ভব হয়।
বিগত কয়েক মাস ধরে বাংলায় চিকিৎসা ক্ষেত্রে মহিলা নিরাপত্তা নিয়ে অশস্তিতে রাজ্য সরকার। আর জি কর কান্ড থেকে শুরে করে উলুবেড়িয়ার কর্মরত মহিলা চিকিৎসককে প্রকাশ্যে ধর্ষনের হুমকিতে বেশ নরেচড়ে বসেছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই হাসপাতাল গুলিতে নিরাপত্তা বাড়নোর নির্দেশ দিয়েছেন।
