ওঙ্কার ডেস্ক: লকডাউনে নিয়ম ভাঙার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন বাবা-ছেলে, হেফাজতে মৃত্যু হয়েছিল দুজনের। অভিযোগ উঠেছিল বাবা-ছেলের উপর পুলিশ নৃশংস অত্যাচার করার জেরে প্রাণ হারান তাঁরা। ছয় বছর আগের সেই ঘটনায় নয় জন পুলিশ কনস্টেবলকে সোমবার মৃত্যুদণ্ড দিল তামিলনাড়ুর মাদুরাই জেলার একটি আদালত।
রিপোর্ট অনুসারে, নিহত বাবা ও ছেলের নাম পি জয়রাজ এবং জে বেনিক্স। থুথুকুডি জেলায় তাঁদের একটি মোবাইল দোকান ছিল। ছয় বছর আগে ২০২০ সালে ১৯ জুন হেফাজতে তাঁদের উপর নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটে। জয়রাজ এবং বেনিক্সকে লকডাউনের সময় নিয়ম ভেঙে দোকান খুলে রাখার অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার করে। যদিও পরে জানা যায়, নির্ধারিত যে সময় দোকান খোলা রাখার জন্য প্রশাসনের তরফে ঠিক করা হয়েছিল, সেই সময়ের মধ্যেই তাঁদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি খোলা ছিল। দুজনকে সাথানকুলাম থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয় জয়রাজ ও বেনিক্সকে। কয়েক দিনের মধ্যেই দুজনের মৃত্যু হয়।
নিহতদের পরিবার অভিযোগ করে, থানায় সারারাত ধরে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল। মলদ্বার থেকে রক্তপাত-সহ গুরুতর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়েছিল। পরে এই ঘটনার তদন্তভার যায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই এর হাতে। গোয়েন্দারা ১০ জন পুলিশকর্মীকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের মধ্যে এক জন ইন্সপেক্টর, দুজন সাব-ইন্সপেক্টর এবং বেশ কয়েকজন কনস্টেবল ছিলেন। কেন্দ্রীয় সংস্থাটি পরবর্তীতে অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনে। তদন্ত চলাকালীন এক মহিলা কনস্টেবল সাক্ষ্য দেন। তিনি তদন্তকারীদের জানান, বাবা ও ছেলেকে রাতভর মারধর করা হয়। এমনকি সেই অপরাধের ফলে থানার টেবিল ও লাঠিতে রক্তের দাগ লেগে ছিল। ঘটনার পর সাথানকুলাম থানার গুরুত্বপূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজও মুছে ফেলা হয়।