পূর্বতন দুই সরকারকে নিশানায় রেখে ফের সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার গণেশপুজোর উদ্বোধনে গিয়ে একযোগে বাম এবং তৃণমূলকে কটাক্ষ করলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বিগত ৫০ বছরে বাংলার রাজনীতি থেকে পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস ও ঐতিহ্য ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘৩৪ বছর আমাদের পঞ্জিকা, শাস্ত্র, ঐতিহ্য, পুরোহিত, আরতি, পুষ্পাঞ্জলি— সব ভুলিয়ে দিয়েছিল লাল রাজত্ব।’
এদিন বামেদের নিশানায় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ, ‘প্যান্ডেল থেকে দূরে লাল শালু লাগিয়ে বসত। সেখানে বিবেকানন্দ, লোকেশ্বরানন্দ, উদ্বোধন প্রকাশকের বই পাওয়া যায় না। ভারত সেবাশ্রমের বই পাওয়া যায় না। পশ্চিমবঙ্গ তৈরির ইতিহাস রয়েছে, এমন বই মেলে না। দ্বিজাতি তত্বের ভিত্তিতে ভারত ভাগ হয়েছিল, সে বই মেলে না। বিদেশি কার্ল মার্ক্সের বই থাকে। গীতা, হনুমান চল্লিশা থাকে না। সেখানে পরিষ্কার লেখা থাকে, আমরা ধর্ম মানি না, ধর্ম আফিম।’
এপরেই তৃণমূল জমানার ‘অনাচার’ নিয়ে সরব হন শুভেন্দু। বলেন, ‘বামেদের পরে ১৫ বছর প্রথম দিকে না-হলেও শেষ দিকে বাংলাকে জামাতিকরণ করার সম্পূর্ণ চেষ্টা হয়েছে। এক বছর প্রতিমা নিরঞ্জনের দিনও বদলানো হয়েছিল।’ কিন্তু এই বছর পুজোর নিয়ম নিয়ে কোনও বেনিয়ম চলবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন শুভেন্দু। বলেন, পঞ্জিকা মেনে পুজো হবে। নিরঞ্জন হবে। পিতৃপক্ষে পুজোর উদ্বোধন হবে না। পাশাপাশি অষ্টমীতে গোটা রাজ্যে মদের দোকান বন্ধ রাখা হবে বলেও জানান তিনি।
আজ গণেশ পুজোর উদ্বোধন মঞ্চে দাঁড়িয়ে বাঙালির সংস্কৃতি রক্ষায় শ্যামাপ্রসাদ ও স্বামী প্রণবানন্দের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। মনে করান তাঁদের অবদান। কিন্তু বিগত ৫০ বছরে পূর্বতন দুই সরকার সেই ইতিহাস ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘বাঙালি হিন্দুর হোমল্যান্ড তৈরির দাবি আদায়ের জন্য শ্যামাপ্রসাদ, স্বামী প্রণবানন্দের যে লড়াই, ভূমিকা, তাকে এই রাজ্যে ভুলিয়ে দিতে চেয়েছিল (বাম, তৃণমূল)। সেই ঐতিহ্য, পরম্পরা ফিরিয়ে আনতে চাই।’