নিজস্ব সংবাদদাতা , নদিয়া : তৃণমূল কর্মীর হাতে মার খেলেন কলেজের অধ্যক্ষ। অপমানে কাঁদতে কাঁদতে চাকরি ছাড়ার ইচ্ছে প্রকাশ করলেন তিনি। নদিয়ার চাপড়ার গভর্নমেন্ট জেনারেল ডিগ্রী কলেজের এই ঘটনায় হতবাক গোটা শিক্ষমহল!তৃণমূল কর্মীর হাতে আক্রান্ত হওয়ার পর আতঙ্কে নিরাপত্তাহীনতায় চাকরি ছাড়তে চাইছেন অধ্যক্ষ। আক্রান্ত ঐ অধ্যক্ষের নাম শুভাশিস পান্ডে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে চাপড়া থানার পুলিশ। যদিও ঘটনায় অভিযুক্ত তৃণমূল কর্মী অজয় ঘোষ এখনো অধরা।
একজন সাধারণ তৃণমূল কর্মীর হাতেও আক্রান্ত হতে হচ্ছে কলেজের অধ্যক্ষ কয় এমন ঘটনায় সরব হয়েছে রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক দল গুলো। জানা গেছে ওই অধ্যক্ষ মূলত কীটপতঙ্গ রক্ষা বিষয়ক গবেষক হিসেবে কাজ করেন। পাশাপাশি পরিবেশ কর্মী হিসেবেও গোটা দেশ জুড়ে কাজ করেছেন তিনি। প্রায় পাঁচ বছর ধরে চাপড়াতে কর্মরত আছেন তিনি। মূলত ওই এলাকাতেও যাতে কীটপতঙ্গর অবলুপ্তি না হয় সেই কাজও করে আসছিলেন তিনি। চাপড়ায় দীর্ঘদিন ধরেই দেখা যাচ্ছে একাধিক সরকারি জায়গায় ও রাস্তার পাশে নয়ানজুলির ধারে ঝোপ-জঙ্গল সাফাই করে দিচ্ছে এক শ্রেণির মানুষ। যার ফলে সেই প্রভাব কীটপতঙ্গের উপর পড়ছিল। মূলত সেই কারণে তিনি মানুষকে সচেতন করতে বিভিন্ন জায়গায় সচেতনতামূলক বোর্ড লাগিয়েছিলেন। কিন্তু দেখা যায় কিছু সাধারণ মানুষ সেই বোর্ডগুলো ভেঙে ফেলে। মূলত গতকাল তিনি ওই ভাঙ্গা বোর্ডের একটি মেরামত করতে গিয়েছিলেন নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে নিয়ে। সেখানেই ওই অভিযুক্ত হঠাৎ তাকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করেন কার অনুমতি নিয়ে তিনি এই বোর্ড লাগিয়েছিলেন। সেই নিয়ে শুরু হয় কথা কাটাকাটি।এরপরেই আচমকা ঐ অভিযুক্ত বেধড়ক মারধর করতে থাকে অধ্যক্ষ শুভাশিস পান্ডেকে।
জানা গেছে, অভিযুক্ত অজয় ঘোষের ভাই চাপড়া হাটখোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য।এরপরই আক্রান্ত ঐ অধ্যক্ষ কে চিকিৎসার জন্য চাপড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অধ্যক্ষ শুভাশিস পান্ডে অভিযুক্তর বিরুদ্ধে চাপড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কার্যত তিনি কেঁদে ফেলে বলেন, উচ্চ শিক্ষা দপ্তর আমাকে অন্য কলেজে বদলি করে দিক নয়তো আমি নিজেই চাকরি ছেড়ে দেব।
