Skip to content
জুন 3, 2026
  • Facebook
  • Instagram
  • YouTube
  • Linkedin
  • WhatsApp Channel
  • Google Play

Onkar Bangla

Primary Menu
  • কলকাতা
  • পশ্চিমবঙ্গ
    • উত্তরবঙ্গ
    • বর্ধমান
    • পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর
    • হাওড়া ও হুগলি
    • পুরুলিয়া বীরভূম বাঁকুড়া
    • উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা
    • নদিয়া মুর্শিদাবাদ
  • দেশ
  • বিদেশ
  • বাংলাদেশ
  • সম্পাদকের পাতা
    • এডিট
    • পোস্ট এডিট
    • বইপত্র
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফ স্টাইল
  • ভ্রমন
  • পাঁচফোড়ন
  • লাইভ
  • ভিডিও
  • যোগাযোগ করুন
  • Home
  • বাংলাদেশ
  • একজন ‘তোফায়েল আহমেদ’-এর কথা

একজন ‘তোফায়েল আহমেদ’-এর কথা

Online Desk জুন 3, 2026
TF-2.jpg

প্রাইমা হোসেন

বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী রাষ্ট্রগঠনের ইতিহাসে যে কজন নেতার নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়, তাদের মধ্যে অন্যতম তোফায়েল আহমেদ। তার প্রয়াণ শুধু একটি রাজনৈতিক দলের ক্ষতি নয়, জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তোফায়েল আহমেদ ছিলেন সেই প্রজন্মের প্রতিনিধি, যারা পাকিস্তানি শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ছাত্রনেতা হিসেবে তিনি ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার রাজনৈতিক জীবন ছিল সংগ্রাম, আদর্শ ও দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি ছিলেন স্পষ্টভাষী, সাহসী এবং জনমুখী। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল গভীর ও আন্তরিক। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও তার ব্যক্তিত্ব, অভিজ্ঞতা ও অবদানের প্রতি বিভিন্ন মহলে সম্মান ছিল। তোফায়েল আহমেদের প্রয়াণে বাংলাদেশ হারাল স্বাধীনতা সংগ্রামের এক জীবন্ত ইতিহাসকে। মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব আন্দোলনের বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলেন তিনি। তার স্মৃতিচারণ, অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা নতুন প্রজন্মের জন্য ছিল ইতিহাস জানার এক মূল্যবান উৎস। তার চলে যাওয়ায় সেই ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যেন আরও দূরে সরে গেল।

তোফায়েল আহমেদ বাংলাদেশের রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ষাটের দশকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। সে সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) ছিলেন। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবুর রহমান-এর রাজনৈতিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তোফায়েল আহমেদ ৯ বার সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি শিল্পমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিপদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত শিল্পমন্ত্রী হিসেবে এবং পরে ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সংসদে তার যুক্তিনির্ভর ও প্রাঞ্জল বক্তৃতা তাকে একজন দক্ষ পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

তোফায়েল আহমেদের রাজনৈতিক অবস্থান ছিল অসাম্প্রদায়িক, বাঙালি জাতীয়তাবাদ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে। তিনি আজীবন আওয়ামী লীগের আদর্শ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসকে সমুন্নত রাখার পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। দীর্ঘ ছয় দশকের রাজনৈতিক জীবনে তিনি দেশের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। রাজনৈতিকভাবে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর একজন প্রবীণ নেতা ছিলেন। দায়িত্বপালন করেছেন প্রচীন এই দলটির সবোর্চ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়ামের সদস্য হিসেবে।

কোন জাতির স্বাধীনতার ইতিহাস কেবল একটি রাষ্ট্রের জন্মকাহিনী নয়, এটি একটি জাতির আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, অধিকার আদায়ের লড়াই এবং আত্মত্যাগের এক মহাকাব্য। এই ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায়ে জড়িয়ে আছে অসংখ্য পরিচিত-অপরিচিত মানুষের অবদান। তাদের মধ্যে অন্যতম একটি নাম তোফায়েল আহমেদ। বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনের পথে তিনি ছিলেন এক সাহসী ও বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর।

বাঙালির ইতিহাসের নানা অধ্যায় পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের মাধ্যমে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হলেও পূর্ব বাংলার মানুষ খুব দ্রুত বুঝতে পারে যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে তারা বৈষম্যের শিকার। পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী পূর্ব বাংলার জনগণকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করে। রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দু চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা, অর্থনৈতিক বঞ্চনা এবং রাজনৈতিক অধিকার হরণের বিরুদ্ধে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল সেই সংগ্রামের প্রথম বড় মাইলফলক। ভাষার জন্য জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের রক্ত বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনার ভিতকে শক্তিশালী করে। এরপর ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান বাঙালির মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে আরও তীব্র করে তোলে।

এই উত্তাল সময়ে ছাত্রসমাজ ছিল আন্দোলনের অগ্রভাগে। আর ছাত্রনেতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন না; তিনি ছিলেন একটি প্রজন্মের সাহস, প্রতিবাদ এবং স্বপ্নের প্রতীক। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তাঁর নেতৃত্ব বিশেষভাবে স্মরণীয়। ছাত্রসমাজের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন পাকিস্তানি সামরিক শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল। সেই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্ন আরও সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে।

১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জাতির নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেওয়া হয়। ইতিহাসের সেই মাহেন্দ্রক্ষণে তোফায়েল আহমেদ ছিলেন অন্যতম প্রধান সংগঠক। এই ঘটনা শুধু একজন নেতাকে সম্মান জানানোর বিষয় ছিল না; এটি ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির আকাঙ্ক্ষার প্রতীকী ঘোষণা।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করলেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি শুরু করে। সমগ্র পূর্ব বাংলা তখন ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছিল। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ বাঙালি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করে। ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’- এই ঘোষণা কোটি মানুষের হৃদয়ে স্বাধীনতার অগ্নিশিখা প্রজ্বলিত করেছিল। তারপর আসে ২৫ মার্চের কালরাত্রি। পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ইতিহাসের অন্যতম বর্বর গণহত্যা চালায়। শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ এবং দুই লাখের বেশি মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশ।

মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তোফায়েল আহমেদ ছিলেন স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গঠন এবং মুক্তিকামী জনগণকে সংগঠিত করার অন্যতম নেতাদের একজন। যুদ্ধের প্রতিটি পর্যায়ে তিনি স্বাধীনতার চেতনা ধারণ করে কাজ করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন প্রমাণ করে, স্বাধীনতা কেবল যুদ্ধক্ষেত্রে অস্ত্র হাতে লড়াইয়ের মাধ্যমে অর্জিত হয়নি; এর পেছনে ছিল দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার নিরলস প্রচেষ্টা।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে অসংখ্য মানুষের অবদান রয়েছে। তবে ইতিহাসে কিছু মানুষ আছেন, যারা একটি সময়ের প্রতীক হয়ে ওঠেন। তোফায়েল আহমেদ তাদেরই একজন। ছাত্রনেতা হিসেবে তার দৃঢ় অবস্থান, স্বাধিকার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি অবিচল আনুগত্য তাকে বিশেষ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে।
আজ স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পরে দাঁড়িয়ে যখন আমরা বাংলাদেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সাফল্যের কথা বলি, তখন আমাদের স্মরণ করতে হয় সেইসব মানুষকে, যাদের সংগ্রাম ও ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে এই রাষ্ট্রের ভিত্তি নির্মিত হয়েছে। নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার ইতিহাস তুলে ধরা জরুরি, কারণ ইতিহাস ভুলে গেলে জাতি তার পথ হারায়। স্বাধিকার আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত প্রতিটি অধ্যায় আমাদের শেখায় যে অধিকার কখনো ভিক্ষা করে পাওয়া যায় না; সংগ্রামের মাধ্যমেই তা অর্জন করতে হয়। তোফায়েল আহমেদের জীবন ও সংগ্রাম সেই শিক্ষারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। তিনি আমাদের মনে করিয়ে দেন যে নেতৃত্ব মানে শুধু ক্ষমতার আসনে বসা নয়; নেতৃত্ব মানে সংকটের সময়ে জনগণের পাশে দাঁড়ানো, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা এবং জাতির স্বপ্নকে নিজের স্বপ্নে রূপ দেওয়া।

আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস যতদিন বেঁচে থাকবে, ততদিন স্বাধিকার আন্দোলনের সাহসী সৈনিক এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক-বাহক তোফায়েল আহমেদের নামও শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হবে। কারণ তিনি কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন- তিনি একটি আন্দোলনের স্মৃতি, একটি প্রজন্মের আবেগ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। তার জীবন আমাদের শেখায়- দেশপ্রেম, সাহস এবং আদর্শের প্রতি অঙ্গীকার থাকলে একজন মানুষও ইতিহাসের গতিপথে গভীর ছাপ রেখে যেতে পারেন।
আজকের প্রজন্ম যখন স্বাধীন বাংলাদেশের অর্জন নিয়ে গর্ব করে, তখন তাদের মনে রাখতে হবে- এই স্বাধীনতার পেছনে তোফায়েল আহমেদের মতো নেতাদের দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ ও অবদান রয়েছে। তার জীবন আমাদের শেখায়, আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কীভাবে সংগ্রাম করতে হয়। তার প্রয়াণে সৃষ্টি হওয়া শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে এই প্রবীণ রাজনীতিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং স্বাধিকার আন্দোলনের সাহসী সৈনিককে। তার অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে। তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, আর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা। তার কর্ম, আদর্শ ও সংগ্রামের স্মৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও গণতন্ত্রের পথে অনুপ্রাণিত করে যাবে।

 

তোফায়েল আহমেদ তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন কেবল একটি দলের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসের অংশ। এমন একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিকের মৃত্যুতে জাতির পক্ষ থেকে যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শন করা রাষ্ট্র ও সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু ঢাকায় তার জানাজা ও নিজ জন্মস্থান ভোলায় শেষ বিদায়ে রাষ্ট্রীয় শোক ও সর্বদলীয় সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রে যে ধরনের শৈথিল্য ও উদাসীনতার অভিযোগ উঠেছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। ঢাকায় জানাজায় অংশগ্রহনকারীদের গ্রেফতার, ভোলায় যুবদল ও ছাত্রদলের জানাজা পড়তে না দেওয়ার হুমকি, জানাজায় আসতে লেকাজনদের বাধা ও তাদের ওপর হামলা সত্যিই নিন্দনীয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের প্রশ্নে সংকীর্ণ দলীয় বিবেচনা কখনোই প্রাধান্য পাওয়া উচিত নয়। গণতান্ত্রিক সমাজে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অবদানকেও সম্মান করার সংস্কৃতি কোন শুভ বার্তা নয়। কারণ তোফায়েল আহমেদ ছিলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী। তার অবদানকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। তাই তার জানাজা, শেষ শ্রদ্ধা এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা বা দায়িত্বহীনতা জনগণের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।

পরিশেষে বলব, জাতীয় জীবনে অবদান রাখা ব্যক্তিদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন কোনো দল বা সরকারের অনুগ্রহ নয়- এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং রাজনৈতিক সৌজন্যের অপরিহার্য অংশ। আমরা মনে করি, ব্যক্তি নয়- ইতিহাস ও জাতির অর্জনকে সম্মান জানানো সভ্য রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিচায়ক।

লেখক আমেরিকাবাসী বিশিষ্ট সমাজ সেবিকা

Post Views: 43

Continue Reading

Previous: পঙ্কজ রায়ের বাসি ফুলের শ্রদ্ধার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ চাইলেন তার পুত্র

সম্পর্কিত গল্প

Untitled.png

CID-র পর অভিষেকের বাড়িতে হাজির ED!

Online Desk জুন 3, 2026
cm-dk-shivakumar.jpg

হাতে সংবিধান নিয়ে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন ডিকে শিবকুমার

Online Desk জুন 3, 2026
KMC.png

কলকাতা পুরসভায় মাসিক বৈঠক এখন আইনসম্মত; জানালো উচ্চ আদালত

Online Desk জুন 3, 2026

You may have missed

TF-2.jpg

একজন ‘তোফায়েল আহমেদ’-এর কথা

Online Desk জুন 3, 2026
Pankaj.jpg

পঙ্কজ রায়ের বাসি ফুলের শ্রদ্ধার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ চাইলেন তার পুত্র

Online Desk জুন 3, 2026
Untitled.png

CID-র পর অভিষেকের বাড়িতে হাজির ED!

Online Desk জুন 3, 2026
lop.png

বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরামর্শদাতা হওয়ার আহ্বান ‘তৃণমূল বিদ্রোহী’-দের

Online Desk জুন 3, 2026
  • Get in Touch
  • Privacy Policy
  • Facebook
  • Instagram
  • YouTube
  • Linkedin
  • WhatsApp Channel
  • Google Play
Copyright © All rights reserved. | Designed and Maintained by UQ Labs.