অর্পিতা মুখার্জী, কলকাতা: আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধাক্কার মুখে পড়ল ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। প্রাথমিক ফলাফলের ইঙ্গিত বলছে, রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিতেও এবার ভালো ফল করেছে ডেমোক্র্যাটরা। হাউস এবং সেনেট দুই জায়গাতেই এগিয়ে রয়েছে বিরোধী শিবির।
ফল প্রকাশের পর প্রথমে নিজের দলের হার থেকে নিজেকে খানিকটা দূরে রাখার চেষ্টা করেন ট্রাম্প। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, ব্যালটে তাঁর নাম ছিল না। থাকলে তিনি বড় ব্যবধানে জিততেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এর মাধ্যমে ট্রাম্প বোঝাতে চেয়েছেন দল হারলেও তাঁর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি। যদিও ভোটের আগে তিনিই ভোটারদের বলেছিলেন, ব্যালটে তাঁর নাম আছে ভেবে ভোট দিতে।
বুধবার অবশ্য সুর কিছুটা নরম করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, নির্বাচনের ফলাফল তিনি পুরোপুরি মেনে নিচ্ছেন। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে মিলে কাজ করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন তিনি।
তবে পরাজয়ের মধ্যেও ট্রাম্প মনে করিয়ে দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর ভেটো ক্ষমতার কথা। সংবিধান অনুযায়ী, আইনসভায় পাশ হওয়া কোনও বিলে তিনি সই না করে তা ফেরত পাঠাতে পারেন। বুধবার তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি লাল টুপির ছবি পোস্ট করেন, যেখানে সাদা অক্ষরে লেখা ছিল ‘ভেটো’। এর আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তাঁর হাতে চূড়ান্ত ক্ষমতা রয়েছে, আর সেটা হল ভেটো। ডেমোক্র্যাটরা তাঁকে ‘মিস্টার ভেটো’ বললেও তাঁর আপত্তি নেই।
প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী, ১০০ আসনের সেনেটে ৫৩টি আসনে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা, রিপাবলিকানরা এগিয়ে ৪১টিতে। অন্যদিকে ৪৩৫ আসনের হাউসে ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে ২০৭টি আসনে, রিপাবলিকানরা ১২৩টিতে। এর ফলে আগামী দুই বছর ট্রাম্পকে যথেষ্ট চাপের মধ্যে সরকার চালাতে হবে। যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করাতে ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের উপর নির্ভর করতে হবে তাঁকে।
এর পাশাপাশি ট্রাম্পের জন্য আরও এক অস্বস্তির জায়গা হল, কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ডেমোক্র্যাটরা তাঁর প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে পারবে। প্রয়োজনীয় নথি ও সাক্ষীদের তলব করতে পারবে তারা। এমনকি তাঁকে বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া শুরুর সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।