ওঙ্কার ডেস্ক: ইউক্রেনকে ড্রোন সরবরাহ নিয়ে ব্রিটেনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাশিয়া। মস্কোর অভিযোগ, ইউক্রেনকে ব্রিটিশ-নির্মিত ড্রোন সরবরাহ করে সংঘাতে নিজেদের ভূমিকা আরও গভীর করছে লন্ডন। সেই ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়ার ভূখণ্ডে দূরপাল্লার হামলা চালানো হয়ে থাকলে তার ‘পরিণতি’ ব্রিটেনকে ভোগ করতে হবে বলেও সতর্ক করেছে রুশ প্রশাসন। তবে মস্কোর এই হুঁশিয়ারির পরও ইউক্রেনের পাশে থাকার অবস্থান থেকে সরে আসেনি ব্রিটেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জানিয়েছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনকে তাঁর দেশ পূর্ণ সমর্থন দিয়ে যাবে।
এই উত্তেজনার সূত্রপাত একটি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে। সেখানে দাবি করা হয়, ইউক্রেন প্রথম বার ব্রিটেনে তৈরি ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়ার ভূখণ্ডের ভিতরে দূরপাল্লার হামলা চালিয়েছে। ওই প্রতিবেদনের পরই লন্ডনে অবস্থিত রুশ দূতাবাস ব্রিটেনকে সতর্ক করে। দূতাবাসের বক্তব্য, ইউক্রেনকে সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে ব্রিটেন সংঘাতকে আরও উসকে দিচ্ছে। লন্ডনের এই ভূমিকার ফলাফল অনিবার্য এবং তার জন্য ব্রিটেনকে জবাবদিহি করতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। রাশিয়ার অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ইউক্রেনের ক্রমবর্ধমান দূরপাল্লার ড্রোন হামলা। যুদ্ধের সাম্প্রতিক পর্যায়ে ইউক্রেন রাশিয়ার অনেক ভিতরে থাকা তেল শোধনাগার, জ্বালানি পরিকাঠামো এবং সামরিক সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত লজিস্টিক কেন্দ্রগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। মস্কোর দাবি, পশ্চিমী দেশগুলির দেওয়া অস্ত্র ও প্রযুক্তির ফলে ইউক্রেনের এই ধরনের হামলার সক্ষমতা বাড়ছে। ব্রিটিশ-নির্মিত ড্রোন ব্যবহারের খবর সত্যি হলে তা লন্ডনের সংঘাতে প্রত্যক্ষতর ভূমিকার প্রমাণ হতে পারে বলে মনে করছে রাশিয়া।
তবে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এখনও নির্দিষ্ট করে নিশ্চিত করেনি যে রাশিয়ার ভূখণ্ডে সাম্প্রতিক হামলায় ব্রিটিশ তৈরি ড্রোনই ব্যবহার করা হয়েছিল। ইউক্রেনকে ড্রোন দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্রিটেনের পরিকল্পনাও যথেষ্ট বড়। চলতি বছরের জুনে লন্ডন জানিয়েছিল, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ইউক্রেনকে ১ লক্ষ ৫০ হাজার ড্রোন সরবরাহ করা হবে। এই সামরিক সহায়তা প্রায় ৭৫২ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি প্যাকেজের অংশ।
রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভও ব্রিটেনকে নিয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ইউক্রেনের সামরিক অভিযানে ব্রিটেনের সরাসরি ভূমিকা প্রমাণিত হলে মস্কো লন্ডনকে এই যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী হিসেবে বিবেচনা করার অধিকার রাখে। ব্রিটিশ সামরিক সহায়তা এবং ইউক্রেনের হামলার মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র তৈরি হলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্য দিকে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম রাশিয়ার হুমকির পরও ইউক্রেনের প্রতি লন্ডনের সমর্থন পুনরায় স্পষ্ট করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ইউক্রেনের কঠিন সময়ে ব্রিটেন তার পাশে থাকবে এবং রাশিয়ার চাপের কারণে সেই নীতিতে কোনও পরিবর্তন হবে না।