ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন গোয়েন্দা মহলের এক গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টর তুলসী গাবার্ড সম্প্রতি কংগ্রেসে জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ সামরিক অভিযানের পর ইরান আর সক্রিয়ভাবে কোনও পারমাণবিক কর্মসূচি চালাচ্ছে না। আর এতেই প্রশ্নের মুখে পড়েছে ট্রাম্পের ইরানের উপর আক্রমণের যুক্তি।
তুলসী গাবার্ড-এর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই সামরিক হামলায় ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলি কার্যত অচল হয়ে পড়ে। সেই ঘটনার পর থেকে তেহরান নতুন করে পারমাণবিক প্রকল্প গড়ে তোলার লক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য কোনও পদক্ষেপ নেয়নি বলেই মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলির কাছে তথ্য রয়েছে।
এই দাবি ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, কারণ এর আগে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছিল, ইরান দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে এগোচ্ছিল এবং সেই আশঙ্কা থেকেই সামরিক অভিযান চালানো হয়। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছিল। তবে গোয়েন্দা প্রধানের এই সাম্প্রতিক মূল্যায়ন সেই দাবিকে অনেকটাই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু না করে থাকে, তাহলে যুদ্ধের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে যে যুক্তি তুলে ধরা হয়েছিল, তা এখন দুর্বল হয়ে পড়ছে।
একই সঙ্গে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন গ্যাবার্ড। তিনি জানান, ইরান ভবিষ্যতে তাদের সামরিক শক্তি বিশেষ করে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা পুনর্গঠন করতে পারে। ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়। এই প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।