ওঙ্কার ডেস্ক: ভাঙড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেল তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে। শওকতের গ্রেপ্তারির খবর প্রকাশ্যে আসার পর একদিকে যখন তাঁর সমর্থকরা ক্ষোভে ফুঁসছেন, অন্যদিকে সেই ঘটনাকে সামনে রেখে প্রকাশ্যে আনন্দ উদ্যাপনে মাততে দেখা গেল আইএসএফ নেতা আরাবুল ইসলাম ও তাঁর অনুগামীদের। ভাঙড়ের একাধিক এলাকায় মিষ্টি বিলি করে শওকত মোল্লার গ্রেপ্তারিকে স্বাগত জানান তাঁরা। ফলে ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
শনিবার সকালে ভাঙড়ের বিভিন্ন এলাকায় আরাবুল ইসলামকে সমর্থকদের সঙ্গে রাস্তায় নেমে মিষ্টি বিতরণ করতে দেখা যায়। আইএসএফ কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ছিল উৎসবের আবহ। কোথাও মিষ্টি বিলি, কোথাও আবার স্লোগান তুলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায় তাঁদের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়। বহু মানুষ রাস্তায় দাঁড়িয়ে এই রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া প্রত্যক্ষ করেন।
আরাবুল ইসলাম দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙড়ের মানুষ যে ধরনের রাজনৈতিক সন্ত্রাস ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলে আসছিলেন, শওকত মোল্লার গ্রেপ্তারি সেই প্রেক্ষাপটেই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তাঁর বক্তব্য, আইনের পথেই সবকিছুর নিষ্পত্তি হওয়া উচিত এবং তদন্তকারী সংস্থা নিজেদের কাজ করছে। সেই কারণেই সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই মিষ্টি বিলির ঘটনাকে কটাক্ষ করা হয়েছে। দলের নেতাদের বক্তব্য, কোনও ব্যক্তির গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিকভাবে আনন্দ উদ্যাপন করা সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচয় নয়। পাশাপাশি তাঁরা দাবি করেছেন, আইন আইনের পথে চলবে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই কাউকে দোষী বা নির্দোষ বলে চিহ্নিত করা উচিত নয়।
ভাঙড়ের রাজনীতিতে শওকত মোল্লা এবং আরাবুল ইসলামের দ্বন্দ্ব নতুন নয়। গত কয়েক বছর ধরে দুই নেতার মধ্যে প্রকাশ্য রাজনৈতিক সংঘাত বারবার সামনে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, পঞ্চায়েত নির্বাচন কিংবা স্থানীয় ইস্যুতে দুই পক্ষের সংঘর্ষ এবং বাকযুদ্ধ একাধিকবার রাজ্য রাজনীতির শিরোনামে উঠে এসেছে। সেই পুরনো রাজনৈতিক রেষারেষির আবহেই শওকতের গ্রেপ্তারির পর আরাবুলের এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে ভাঙড়ে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও বাড়তে পারে। কারণ একদিকে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চল, অন্যদিকে আইএসএফও ক্রমশ নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে শওকত মোল্লার গ্রেপ্তারি এবং তার জেরে আরাবুল ইসলামের প্রকাশ্য উদ্যাপন নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে ভাঙড়ে। এখন নজর তদন্তের অগ্রগতি এবং এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই শিবিরের পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থানের দিকে।