ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল কেন্দ্র। নবান্নে রাজ্য সরকারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ঘোষণা করেন, দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত একটি উচ্চগতির বুলেট ট্রেন করিডর তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত এই করিডর দিল্লি, লখনউ, বারাণসী, পাটনা হয়ে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়িকে সংযুক্ত করবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি পৌঁছতে সময় লাগবে মাত্র ছয় ঘণ্টা, যা বর্তমান যাত্রাসময়ের তুলনায় অনেকটাই কম।
নবান্নে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক এবং রেল মন্ত্রকের প্রতিনিধিরা। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রেলমন্ত্রী জানান, দেশের পূর্বাঞ্চলের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে কেন্দ্র সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই পূর্ব ভারতের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিকে দ্রুতগতির রেল পরিষেবার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তাঁর মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু যাত্রী পরিষেবার ক্ষেত্রেই নয়, বাণিজ্য, পর্যটন এবং শিল্পোন্নয়নের ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত খুলে যাবে।
রেলমন্ত্রী জানান, উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রাজধানী দিল্লির যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করতে বুলেট ট্রেন প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। শিলিগুড়ি উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হওয়ায় এই অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বও যথেষ্ট। ফলে দ্রুতগতির রেলপথ চালু হলে উত্তরবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছে কেন্দ্র।
বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গে চলমান বিভিন্ন রেল প্রকল্প নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। রেলমন্ত্রী দাবি করেন, গত কয়েক বছরে রাজ্যে রেল অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। একাধিক নতুন লাইন, ডাবলিং প্রকল্প, স্টেশন আধুনিকীকরণ এবং যাত্রী পরিষেবা উন্নয়নের কাজ চলছে। তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গের ১০০-রও বেশি স্টেশনকে আধুনিক রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে উন্নত যাত্রীসুবিধা, ডিজিটাল পরিষেবা এবং আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
এছাড়াও কলকাতা মেট্রোর সম্প্রসারণ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন অশ্বিনী বৈষ্ণব। তিনি জানান, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে কলকাতা মেট্রোয় ৬০টি নতুন অত্যাধুনিক রেক সংযোজন করা হবে। এর ফলে যাত্রী পরিষেবার মান আরও উন্নত হবে এবং ব্যস্ত রুটগুলিতে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হবে, রেলমন্ত্রী আরও বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় বাড়লে বহুদিন ধরে ঝুলে থাকা বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে রেল অবকাঠামো খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ হবে এবং রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নে রেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বুলেট ট্রেন প্রকল্পের সম্ভাব্য রূপরেখা প্রকাশের পর স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যের বিভিন্ন মহলে উৎসাহ দেখা দিয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের রাজধানীর সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগও তৈরি হতে পারে। যদিও প্রকল্পের বিস্তারিত সময়সূচি ও বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট রূপরেখা এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবুও কেন্দ্রের এই ঘোষণাকে পূর্ব ভারতের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।