ওঙ্কার ডেস্ক: ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই শুরু করেছে। পার্টির প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্ভবত নভেম্বরের প্রথম দিকে কলকাতার শহিদ মিনার বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একটি সমাবেশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন। এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে আগামী নির্বাচনের মূল ইস্যু ও রণকৌশল নির্ধারণ করা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ তৃণমূল কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্বাচন প্রস্তুতিতে একটি শক্তিশালী সূচনা হিসেবে কাজ করবে।
নির্বাচন কমিশনার সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে ভোট ঘোষণা হতে পারে। সেই সময়সীমার মধ্যে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়া তাদের নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রধান অস্ত্র হবে। সমাবেশের মাধ্যমে এই বিষয়টি জনগণের সামনে বিশেষভাবে তুলে ধরা হবে বলে রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে।
নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি ‘আমি বাংলার ডিজিটাল যোদ্ধা’ নামে একটি নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করেছেন। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দলের তরুণ কর্মীরা ডিজিটাল মাধ্যমে বিজেপির ‘বাংলা-বিরোধী’ প্রচারের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। ডিজিটাল প্রচার কার্যক্রমের মাধ্যমে দলের মেসেজ দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো হবে এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে।
এছাড়া, বিজয়া সম্মিলনী উপলক্ষে ডায়মন্ড হারবারে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন, প্রতিটি বুথে ভোটার তালিকার সঠিকতা নিশ্চিত করতে হবে এবং উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ফের একটি সেবাশ্রয়ের আয়োজন করা হবে, যেখানে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করা হবে। এর মাধ্যমে পার্টি জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে চাইছে।
রাজ্যের শাসকদলের এই প্রস্তুতি এবং পরিকল্পনা আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশল ও প্রচারের মূল দিক নির্ধারণ করবে। নভেম্বরের সমাবেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নির্বাচনী লড়াইয়ের মূল সুর বেঁধে দেওয়ার কথা রয়েছে, যা দলের কর্মীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করবে।
