ওঙ্কার ডেস্ক: ৯ তারিখ পালাবদলের পর তৃণমূল সরকারের পতন ঘটেছে। আর তার পর থেকেই নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপির মতে যে সকল জনপ্রতিনিধিরা তৃণমূলের বর্তমানে তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হবেন সেই সকল ভাল তৃণমূলের সদস্য দের উদ্দেশে বিজেপির দরজা খোলা হয়েছে। এই আবহে মঙ্গলবার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিষয়টি খোলসা করলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বারাসতের তৃণমূল সাংসদকে ‘বিশেষ’ তকমা দেওয়ার পাশাপাশি পূর্বতন জমানার ‘বয়কটের রাজনীতি’ তুলে ধরে কড়া সমালোচনা করলেন তিনি। কিন্তু বিরোধী দলের এই ‘বিশেষ বিশেষ’ সাংসদ কারা? এর জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “যাঁরা অনেকদিন পর সত্যি কথা বলছেন, তাঁরাই হলেন বিশেষ বিশেষ সাংসদ। যাঁরা আমাদের বলছেন, ‘আপনারা আমাদের স্বাধীনতা পাইয়ে দিচ্ছেন’।” শুভেন্দুবাবু জানান, সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের কিছু খোলামেলা বক্তব্য তিনি শুনেছিলেন। তারপরেই রাজ্য সরকারের তরফে তাঁকে এই প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়।
এদিনের বৈঠকে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক সৌজন্যের সাক্ষী থাকলেন উপস্থিত আধিকারিকরা। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, বৈঠকে এসে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে নিজের পুরনো ক্ষোভ উগরে দেন কাকলি। অতীতে তৃণমূল জমানার প্রশাসনিক বৈঠকগুলিতে তাঁকে কখনও মন খুলে বলার বা মতামত জানানোর সুযোগ দেওয়া হতো না বলে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুযোগ করেন বারাসতের সাংসদ। এর আগেও বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার দলের অন্দরের মধ্যেই তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক ব্যানার্জি-র বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন। বিগত সরকারের জমানায় বিরোধী জনপ্রতিনিধিদের যে চরম হেনস্থার মুখে পড়তে হতো, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগে বিডিও বা ওসির মতো নিচুতলার পুলিশ-প্রশাসনিক আধিকারিকরাও বিজেপির সাংসদদের ফোন পর্যন্ত ধরতেন না। এই নোংরা সিস্টেমটা একেবারেই ঠিক নয়।” “আজকের বৈঠকে বসিরহাটের বিরোধী বিধায়করা এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজনকে আমি নিজে বলার সুযোগ করে দিয়েছি।” শেষে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের বার্তা দিয়ে শুভেন্দুবাবু সাফ জানান, “আমরা চাই কেন্দ্র ও রাজ্যের ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের আসল সুবিধা বাংলার সাধারণ মানুষ পাক। রাজনৈতিক কচকচানি বা লড়াই কেবল নির্বাচনের সময়ই মানায়, কাজের ক্ষেত্রে নয়।”