ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্যজুড়ে বেআইনি ও অনুমোদনহীন টোল গেটের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বাংলায় নব নির্বাচিত বিজেপি রাজ্যে সরকার ঘঠনের পর ঘোষণা করেছে, প্রতিটি জেলায় সরকারি অনুমোদন ছাড়া চালু থাকা সমস্ত টোল গেট, ড্রপ গেট, ব্যারিকেড এবং অর্থ আদায়ের পয়েন্ট অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। মঙ্গলবার এই মর্মে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের দফতর থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারির নির্দেশে বলা হয়েছে, বহু এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাস্তা ও যোগাযোগপথে অনুমোদনহীনভাবে টোল আদায়ের অভিযোগ জমা পড়ছিল। সাধারণ যাত্রী, পণ্যবাহী গাড়ির চালক এবং পরিবহণ সংস্থাগুলির উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছিল। কোথাও কোথাও স্থানীয় স্তরে বেআইনি উপায়ে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগও উঠে আসে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে এবং প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
প্রত্যেক জেলার জেলাশাসককে নিজ নিজ এলাকায় থাকা সমস্ত টোল গেট পর্যালোচনা করে বেআইনি ও অনুমোদনহীন টোল আদায় কেন্দ্রগুলি চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে। চিহ্নিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেগুলি বন্ধ করার ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে, ভবিষ্যতে নতুন করে কোনও বেআইনি টোল গেট তৈরি না হয়। নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, জেলাগুলিকে বৈধ ও সরকারি অনুমোদিত টোল গেটগুলির একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করতে হবে। সেই তালিকায় উল্লেখ থাকবে কোন টোল গেট আইনসিদ্ধ, কোন দফতর বা সংস্থা তা পরিচালনা করছে এবং সেখান থেকে সংগৃহীত অর্থ কোথায় জমা পড়ছে। শুক্রবারের মধ্যে সেই রিপোর্ট নবান্নে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বেআইনি অর্থ আদায় বন্ধের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আর্থিক স্বস্তি বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবহণ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেও এই পদক্ষেপ কার্যকর হতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলের ধারণা।
রাজ্যে নব নির্বাচিত বিজেপি সরকারের এই নির্দেশের ফলে জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির উপর দায়িত্ব অনেকটাই বেড়েছে। দ্রুত অভিযানে নেমে অবৈধ টোল গেটগুলি সরিয়ে দেওয়া এবং আইনানুগ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। রাজ্যবাসীর একাংশের মতে, দীর্ঘদিনের একটি সমস্যার সমাধানে এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে সড়কপথে যাতায়াত আরও সহজ, স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত হবে।