ওঙ্কার ডেস্ক: রায়গঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মন মঙ্গলবার জামিন পেয়েছেন আদালত থেকে। স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে অপহরণ ও খুনের ঘটনায় প্রশান্ত অভিযুক্ত। কিন্তু পুলিশ এই মামলার উপযুক্ত নথি মঙ্গলবার বিচারকের কাছে না জমা দিতে পারায় জামিন পেয়ে গিয়েছেন অভিযুক্ত্য। আর এই বিষয়টি নিয়ে এবার পুলিশকেই নিশানা করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
বুধবার সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি এবং পশ্চিমবঙ্গে প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তন হওয়া সত্ত্বেও রাজ্য পুলিশের একটি অংশের স্বভাবের কোনো বদল হয়নি। প্রশান্ত বর্মন জামিন পাওয়ায় তা স্পষ্ট। পুলিশ আধিকারিকরা অপহরণ ও হত্যা মামলার নথি সময়মতো আদালতে জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে শুধুমাত্র জামিন দেওয়া হয়েছে। দিলীপের কথায়, ‘রাজ্য পুলিশের একটি অংশের স্বভাব বদলায়নি। এই ব্যাপারে নিশ্চয়ই কোনো গোপন ষড়যন্ত্র রয়েছে। আমি পুলিশকে জিজ্ঞাসা করছি, কেন দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা হয়নি। পুলিশ তাদের খুঁজে বের করতে পারছে না। অথচ, প্রায় সময় এই ধরনের ব্যক্তিরা পুলিশের সঙ্গে সন্ধ্যায় বসে চা খাচ্ছেন’
উল্লেখ্য, স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার খুনের নেপথ্যে প্রশান্তের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ। ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর নিউটাউন থানার যাত্রাগাছির খালধার থেকে স্বপনের দেহ উদ্ধার হয়। সল্টলেকের দত্তাবাদের স্বর্ণব্যবসায়ী ছিলেন তিনি। অপহরণ করে ওই সোনা ব্যবসায়ীকে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। এই খুনের ঘটনা সম্পর্কিত মামলায় তাঁকে আত্মসমর্পণ করতে বলে নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু সুপ্রিম নির্দেশ সত্ত্বেও আত্মসমর্পণ করেননি প্রশান্ত। পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন তিনি এত দিন। অবশেষে মঙ্গলবার গ্রেফতার হলেও জামিন পান।