নিজস্ব সংবাদদাতা : ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নিবাচনের প্রথম দফার গণনা শেষে বিজেপি প্রার্থী আইনজীবী দেবাংশু পণ্ডা এগিয়ে রয়েছেন।নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দফার গণনা শেষে বিজেপি প্রার্থী পেয়েছেন ৯,৫৩৪ ভোট, এরপর সিপিএমের শম্ভুনাথ কুর্মি পেয়েছেন ৪৪৮ ভোট এবং কংগ্রেস প্রার্থী আবদুর রাজ্জাক পেয়েছেন ২২৫ ভোট। ফলতায় একসময় দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান প্রথম দফা শেষে পেয়েছেন মাত্র ২১০টি ভোট। সব মিলিয়ে ২১ দফা গণনা হবে এবং দুপুর ১টার মধ্যে ফলাফল স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কিন্তু ভোটকেন্দ্রের বাইরে সমবেত বিজেপি সমর্থকরা ইতিমধ্যেই উদযাপন শুরু করে দিয়েছেন। সেখানকার মানুষের মধ্যে চলছে মিষ্টি বিতরণ।
ভোটকেন্দ্রের বাইরে এক বিজেপি সমর্থক বলেন, “২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর থেকে এমন একটিও নির্বাচন হয়নি যেখানে ফলতার ভোটাররা নির্ভয়ে ও ভীতিমুক্ত পরিবেশে ভোট দিতে পেরেছেন। এমনকি আগের নির্বাচনগুলিতে অনেক তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থকও ভোট দিতে পারেননি, কারণ জাহাঙ্গীর খান ও তার দলবল তাদের বিশ্বাস করত না। তবে, পুনর্নিবাচনের দিনে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হয়েছে। প্রত্যেকেই নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পেরেছেন। আমরা আত্মবিশ্বাসী যে গণনা শেষে আমাদের প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডা বিপুল ব্যবধানে জয়ী হবেন।”
৪ মে, ফলতা ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ২৯৩টির ফলাফল আগেই ঘোষণা করা হয়েছে। বিজেপি ২০৭টি আসনে বিপুল জয় নিয়ে রাজ্যে সরকার গড়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের আসন সংখ্যা কমে মাত্র ৮০-তে দাঁড়িয়েছে।
দুটি আসনে কংগ্রেস প্রার্থীরা বিজয়ী হলেও, সিপিএম এবং অল ইন্ডিয়া সেকুলার ফ্রন্ট (এআইএসএফ) একটি করে আসন জিতেছে। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেইউপি) প্রতিষ্ঠাতা এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর সংখ্যালঘু-অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ জেলার নওদা ও রেজিনাগর—এই দুটি আসন থেকেই নির্বাচিত হয়েছেন। এখন, প্রবণতা অনুযায়ী ফলতা থেকে বিজেপি প্রার্থী জিতলে, রাজ্য বিধানসভায় শাসক দলের আসন সংখ্যা হবে ২০৮।
ফলতায় গণনা কেন্দ্রের বাইরে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারি। সূত্রের খবর, গণনা কেন্দ্রে সব সব দলের এজেন্ট থাকলেও, তৃণমূলের কোনও এজেন্ট নেই। গণনার শুরুতেই কেন্দ্রে পৌঁছন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা। আত্মবিশ্বাসী সুরে তিনি জানান, ‘দলের কর্মীদের মধ্যে প্রবল উৎসাহ রয়েছে। আমাদের মানসিক প্রস্তুতি তুঙ্গে রয়েছে। আমরা জয়ের ব্যাপারে ১০০ শতাংশ আশাবাদী। বিজেপির জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা।”