ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতীয় সীমান্ত থেকে ফের বে-আইনি ভাবে বাংলাদেশে পালানোর সময় সীমান্তপ্রতিরক্ষাবাহিনীর হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হলেন দুই বাংলাদেশি নাগরিক। জানা গিয়েছে মঙ্গলবার রাতে দুই বাংলাদেশি নাগরিক রাতের অন্ধকারে সীমান্ত অঞ্ছল থেকে নদী সাঁতরে বাংলাদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সেই সময় তাঁরা বি এস এফ এর গুলিতে বিদ্ধ হন। দুই বাংলাদেশি নাগরিক মহম্মদ মহিউদ্দিন (৪২) এবং মহম্মদ শাহিন (২৮) বিএসএফের ছোঁড়া গুলিতে আহত হন বলে অভিযোগ। তারা বাংলাদেশের কালীগঞ্জ উপজেলার শীতলপুর গ্রামের বাসিন্দা। বাংলাদেশের পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য আহত দুই ব্যক্তি অবৈধ উপায়ে বছরখানেক আগে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। তারা তামিলনাড়ুতে ছিলেন। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ভারত সরকার দেশে ফেরাতে উদ্যোগী হতে ওই দুজন ব্যক্তিগত উদ্যোগে ফেরার চেষ্টা করেন। মনে করা হচ্ছে তাদের কাছে বাংলাদেশের কোনও ধরনের নথিপত্র না থাকাতেই তারা ভারতের পুলিশ ও বিএসএফের হাতে ধরা পড়া এড়াতে নিজেরাই নদীতে সাঁতরে দেশে ফেরার চেষ্টা করছিলেন। ওই সময় বিএসএফ তাদের আটকানোর চেষ্টা করলে তারা ধরা দেয়নি। অবস্থা বেগতিক দেখে বিএসএফ গুলি চালালে দুজনেরই পিঠে বুলেট লাগে। প্রথমে তাদেরকে সাতক্ষীরা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর অবস্থার অবনতি হলে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়।
প্রসঙ্গত, বিগত কয়েকদিন ধরেই কাঁটাতার এবং সীমান্ত হত্যা নিয়ে সরব বাংলাদেশি কট্টরপন্থী রাজনীতিবিদরা। সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের বহু পাচারকারী বিএসএফের গুলিতে মরে যায় সীমান্তে। এই নিয়ে বাংলাদেশিদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। ঢাকা বারবার ‘সীমান্ত হত্যা’ বন্ধের কথা বলছে। তবে পাচার এবং অনুপ্রবেশ রুখতে ব্যর্থ হচ্ছে বিজিবি। এই আবহে ভারতের সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে বদ্ধপরিকর বিএসএফ। তবে বাংলাদেশের একাংশ যেন সীমান্ত অনুপ্রবেশকে তাদের ‘জন্মসিদ্ধ অধিকার’ হিসেবে মনে করছেন। এর আগে জায়গায় জায়গায় ভারতের বিএসএফ কাঁটাতার দিতে গেলে তাতে বাধা দিতে দেখা গিয়েছে বিজিবিকে। আবার বিজিবির বিরুদ্ধে অভিযোগ, বহু জায়গায় তারাই ঘুষ নিয়ে অনুপ্রবেশে ‘সাহায্য’ করে দেয়।