ওঙ্কার ডেস্ক: উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নার্সদের পোশাক পরিবর্তনের ঘরে গোপনে কলম ক্যামেরা রেখে ভিডিও রেকর্ড করার অভিযোগে এক চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্যকেন্দ্র চত্বরে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অভিযুক্তকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার সময় ক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে মারধরও করে বলে অভিযোগ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত চিকিৎসকের নাম বিশ্বজিৎ ঘোষ। তিনি ইটাহার ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নার্সদের জন্য নির্দিষ্ট পোশাক পরিবর্তনের কক্ষে গত ১০ জুন একটি কলমের আকারের গোপন ক্যামেরা রেখে আসেন তিনি। পরে ঘরের ভিতরে কলমটির আলো জ্বলতে দেখে এক নার্সের সন্দেহ হয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গিয়ে সেটি একটি পেন ক্যামেরা বলে জানতে পারেন তিনি। এরপর বিষয়টি অন্যান্য নার্স ও কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। অভিযোগ উঠেছে, শুধু একদিন নয়, ডিউটির সময় প্রায়ই ওই চিকিৎসক নার্সদের ড্রেসিং রুমে গোপনে পেন ক্যামেরা রেখে আসতেন। বিষয়টি সামনে আসতেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নার্স ও কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ব্লক মেডিক্যাল হেলথ অফিসারকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান নার্স ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন পুলিশ আধিকারিকরা। পাশাপাশি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন প্রশাসনকেও জানানো হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়। মঙ্গলবার নার্সদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারের সময় উত্তেজিত জনতা তাঁর উপর চড়াও হয় বলে জানা যায়। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। অভিযুক্তের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া পেন ক্যামেরাটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পেন ক্যামেরায় কী ধরনের ভিডিও রেকর্ড হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই ধরনের ঘটনা অতীতেও ঘটেছে কি না এবং অন্য কোনও তথ্য বা প্রমাণ রয়েছে কি না, তাও তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন।